৫৯ বছর পর প্রথমবার ঈদের দিনেও বন্ধ আল-আকসা

ঈদের আনন্দের দিনেও এক বিষণ্ণ ও নজিরবিহীন পরিস্থিতির সাক্ষী হলো ফিলিস্তিনিরা। ১৯৬৭ সালের পর এই প্রথম পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে মুসলমানদের প্রথম কিবলা আল-আকসা মসজিদ বন্ধ করে দিয়েছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। ফলে কয়েক শ ফিলিস্তিনি মুসল্লি বাধ্য হয়ে মসজিদের প্রধান ফটক এবং আশপাশের রাস্তায় নামাজ আদায় করেছেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে ফিলিস্তিনিরা ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য আল-আকসা চত্বরে যাওয়ার চেষ্টা করলে ইসরায়েলি সেনারা তাদের বাধা দেয়। মসজিদের প্রতিটি প্রবেশদ্বার ও প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। কোনো উপায় না দেখে মুসল্লিরা অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের দামেস্ক গেট এবং পার্শ্ববর্তী রাস্তাগুলোতে জায়নামাজ বিছিয়ে সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থান থেকে ঈদের নামাজ সম্পন্ন করেন।

জেরুজালেম গভর্নরেট এই পদক্ষেপকে ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত এবং বিপজ্জনক উসকানি হিসেবে উল্লেখ করেছে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ‘ওয়াফা’-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনি ও ইসলামি সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন করা এবং সেখানে জোরপূর্বক ইহুদিবাদ প্রতিষ্ঠা করা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর গত ২১ দিন ধরে আল-আকসা মসজিদে সাধারণ মুসল্লিদের প্রবেশ করতে দিচ্ছে না ইসরায়েল।

অন্যদিকে, ধ্বংসস্তূপের মাঝেই ঈদের নামাজ আদায় করেছেন যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজাবাসী। খোলা আকাশের নিচে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদগুলোর সামনে পরিবার নিয়ে সমবেত হয়েছিলেন তাঁরা। অবর্ণনীয় কষ্ট ও শোকের মধ্যেও ফিলিস্তিনিরা তাঁদের ধর্মীয় ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে চলমান ইসরায়েলি হামলায় গাজার ১ হাজার ২৪০টি মসজিদের মধ্যে ১ হাজার ১০০টিরও বেশি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।