শেয়ার বাজারে উৎকণ্ঠা ও দরপতন

ঘনিয়ে আসছে হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ খুলে দিতে ইরানকে দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শেষ হতে চলেছে। ট্রাম্পের এই চরম হুঁশিয়ারি আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকায় বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের নতুন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল থেকে এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতে বড় ধরণের দরপতন দেখা গেছে।

গত শনিবার গ্রিনিচ সময় রাত ১১টা ৪৪ মিনিটে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে ট্রাম্প এই আল্টিমেটাম দেন। তিনি লিখেন, ‘ইরান যদি এই মুহূর্ত থেকে ঠিক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো প্রকার হুমকি ছাড়াই হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করে না দেয়, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করে দেবে। আর এই ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হবে ইরানের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দিয়ে।’

ট্রাম্পের এমন হুমকির মুখে বসে নেই তেহরানও। ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, যদি তাদের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে কোনো ধরণের হামলা চালানো হয়, তবে তার জবাব হবে অত্যন্ত কঠোর। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তারা ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সেইসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালাবে, যেখান থেকে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

দুই পরাশক্তির এমন পাল্টাপাল্টি হুমকির মুখে বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা বড় ধরণের ক্ষতির আশঙ্কায় শেয়ার বিক্রি বাড়িয়ে দিয়েছেন। সোমবার লেনদেন শুরু হতেই জাপানের নিক্কেই ও দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচকসহ এশিয়ার প্রধান বাজারগুলোতে লাল সংকেত দেখা গেছে। জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই রুটটি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দামও আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে না দেওয়া হয় এবং ট্রাম্প তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী হামলা শুরু করেন, তবে মধ্যপ্রাচ্য এক দীর্ঘমেয়াদী ও ভয়াবহ জ্বালানি যুদ্ধের কবলে পড়বে।

সূত্র: বিবিসি