মধ্যপ্রাচ্যের ১৭টি মার্কিন ঘাঁটিই ধ্বংস করা হয়েছে, দাবি ইরানের 

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আধিপত্য ধুলিসাৎ করে দেওয়ার এক অভাবনীয় দাবি করেছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেখারচি জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে (মধ্যপ্রাচ্য) স্থাপিত ১৭টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটির সবগুলোই ইরানের শক্তিশালী বাহিনী ধ্বংস করে দিয়েছে।

ইরানি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে শুক্রবার (২৭ মার্চ) এই তথ্য জানানো হয়।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শেখারচি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ঘাঁটি ও সেনাদের সুরক্ষা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরান তার সামরিক কৌশলে আমূল পরিবর্তন এনেছে। 

শেখারচি বলেন, ‘আমরা এখন আর কেবল রক্ষণাত্মক অবস্থানে নেই, আমাদের নীতি এখন আক্রমণাত্মক। এর অর্থ হলো-যদি কেউ আমাদের ওপর হামলা চালায়, আমরা পাল্টা আঘাত করব যতক্ষণ না শত্রু পুরোপুরি ধ্বংস হয়।’

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে বড় ঘোষণা দিয়েছেন এই ইরানি জেনারেল। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘হরমুজ প্রণালির অবস্থা আর আগের মতো হবে না। যুদ্ধ শেষ হলেও এই পথ ব্যবহারের জন্য আমরা কিছু কঠোর শর্ত নির্ধারণ করেছি। বিশ্বকে অবশ্যই আমাদের সেই শর্ত মেনে চলতে হবে।’

প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোর প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে শেখারচি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে আপনাদের দেশে আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করুন। যারা বিদেশি শক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে নিজেদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে, তাদের এর ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে।’ 

তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা দেওয়ার নাম করে যুক্তরাষ্ট্র গত ৫০ বছর ধরে এ অঞ্চলের দেশগুলোর সম্পদ শোষণ করেছে এবং তাদের প্রতারিত করেছে।

ইরানের এই দাবি যদি সত্যি হয়, তবে তা বৈশ্বিক রাজনীতি ও সামরিক শক্তিতে এক বিশাল পরিবর্তন নিয়ে আসবে। তবে এই বিষয়ে পেন্টাগন বা ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।