ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসন এক মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর এবার দেশটিতে স্থল অভিযানের চূড়ান্ত পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এই খবর সামনে আসার পরই নজিরবিহীন কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান। দেশটির অন্যতম শীর্ষ সংবাদমাধ্যম ‘তেহরান টাইমস’ তাদের ইংরেজি সংস্করণের প্রথম পাতায় শিরোনাম করেছে ‘ওয়েলকাম টু হেল’ (জাহান্নামে স্বাগতম)।
তেহরান টাইমসের প্রতিবেদনে সরাসরি হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে, যদি কোনো মার্কিন সেনা ইরানের মাটিতে পা রাখার দুঃসাহস দেখায়, তবে তাদের ‘কফিনে করে’ নিজ দেশে ফিরতে হবে। মার্কিন গণমাধ্যমগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত ১০ হাজার সৈন্য মোতায়েনের খবরের প্রতিক্রিয়ায় ইরান এই চরম বার্তা দিল।
‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ভেতরে সরাসরি স্থল অভিযান বা আক্রমণের বিকল্পগুলো বাড়াতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অতিরিক্ত ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের কথা ভাবছেন। যদিও ট্রাম্প জনসমক্ষে বারবার দাবি করছেন যে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চলছে, কিন্তু পর্দার আড়ালে হাজার হাজার প্যারাট্রুপার ও মেরিন সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি যুদ্ধের নতুন মোড় ইঙ্গিত করছে।
একজন উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থল অভিযান শুরু করে, তবে তেহরান ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের পূর্ণ সক্রিয় করবে। লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর বড় ধরণের হামলা চালিয়ে যুদ্ধের নতুন একটি ফ্রন্ট খুলে দেওয়া হবে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হবে এক মহাবিপর্যয়।
স্থল অভিযানের উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েলি বিমান বাহিনী শুক্রবার তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ‘ইরানি শাসন ব্যবস্থার’ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছে। একই সময়ে লেবাননের বৈরুতে হিজবুল্লাহর আস্তানাগুলোতেও হামলা জোরদার করেছে তেল আবিব।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের এই ‘জাহান্নামে স্বাগতম’ বার্তাটি মূলত মার্কিন জনমত ও পেন্টাগনের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির কৌশল। তবে ১০ হাজার নতুন মার্কিন সেনা যদি সত্যিই ইরানের তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খার্গ আইল্যান্ডে’র কাছাকাছি অবস্থান নেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্য এক দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী যুদ্ধের আগুনে পুড়ে ছাই হতে পারে।
সূএ: তেহরান টাইমস