দক্ষিণ লেবাননে সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব পালনকালে ‘প্রেস’ লেখা স্টিকারযুক্ত গাড়িতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে ৩ জন লেবানিজ সাংবাদিক এবং পরবর্তীতে উদ্ধারকাজে আসা এক প্যারামেডিক (স্বাস্থ্যকর্মী) নিহত হয়েছেন।
শনিবার (২৮ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর নিশ্চিত করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, দক্ষিণ লেবাননের জেজ্জিন সড়কে সাংবাদিকদের বহনকারী গাড়িটি লক্ষ্য করে একের পর এক চারটি নির্ভুল গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান। হামলায় প্যান-আরব টিভি চ্যানেল ‘আল-মায়াদিন’-এর নারী সাংবাদিক ফাতিমা ফতুনি ও তাঁর ভাই ভিডিও সাংবাদিক মোহাম্মদ ফতুনি এবং ‘আল-মানার’ টিভির প্রবীণ যুদ্ধসংবাদদাতা আলি শুয়াইব ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
বর্বরতার এখানেই শেষ নয়; রক্তাক্ত সাংবাদিকদের উদ্ধারে যখন একটি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন প্যারামেডিকদের ওপরও পুনরায় রকেট হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে একজন জরুরি স্বাস্থ্যকর্মী প্রাণ হারান এবং আরও কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী গুরুতর আহত হন।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই ঘটনাকে ‘স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ’ ও আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। বিশ্বজুড়ে নিন্দার মুখে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী হামলার কথা স্বীকার করলেও বরাবরের মতোই নিজেদের সাফাই গেয়েছে। তারা দাবি করেছে, প্রবীণ সাংবাদিক আলি শুয়াইব হিজবুল্লাহর গোয়েন্দা ইউনিটের হয়ে ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছিলেন।
তবে এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও নির্লজ্জ মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে আল-মানার টেলিভিশন। তারা জানিয়েছে, আলি শুয়াইব গত ৩০ বছর ধরে পেশাদারিত্বের সঙ্গে সাংবাদিকতা করছেন। মূলত স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতেই ইসরায়েল এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।