ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড দিতে ইসরায়েলে 'বিতর্কিত' আইন পাশ

ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে একটি বিতর্কিত বিল পাস করেছে ইসরায়েল। সোমবার (৩০ মার্চ) ইসরায়েলের পার্লামেন্টে এই আইন পাস হয়। 

দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অতি-ডানপন্থী মিত্রদের দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই আইন পাস করা হয়।

নতুন এই আইন অনুযায়ী, ইসরায়েলের অস্তিত্ব বিপন্ন করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত প্রাণঘাতী হামলায় জড়িত ফিলিস্তিনিদের সামরিক আদালতে ফাঁসি দেওয়া হবে। ১৯৫৪ সালে ইসরায়েল সাধারণ হত্যার জন্য মৃত্যুদণ্ড বাতিল করলেও দীর্ঘ ৭০ বছর পর আবারও এই বিধান ফিরিয়ে আনা হলো। তবে অভিযোগ উঠেছে যে, একই ধরনের অপরাধ কোনো ইহুদি নাগরিক করলে তিনি এই দণ্ডের আওতায় আসবেন না।

ক্ষমার কোনো অধিকার নেই:
এই আইনে রায় ঘোষণার ৯০ দিনের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর করার বিধান রাখা হয়েছে, যেখানে কিছুটা বিলম্বের সুযোগ থাকলেও ক্ষমার কোনো অধিকার থাকবে না। এটি মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড আরোপের সুযোগ দেয়, তবে তা কেবল অনির্দিষ্ট "বিশেষ পরিস্থিতিতে" প্রযোজ্য।

ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এই দিনটিকে 'বিচারের দিন' হিসেবে অভিহিত করেছেন। সংসদে তিনি বলেন, "আজ নিহতদের জন্য ন্যায়বিচারের দিন, শত্রুদের জন্য প্রতিরোধের দিন। যে সন্ত্রাস বেছে নেয়, সে মৃত্যুই বেছে নেয়।"

অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এই আইনটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং ফিলিস্তিনিদের ভয় দেখানোর একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা হিসেবে নিন্দা করেছেন। আব্বাসের কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, "এই ধরনের আইন ও পদক্ষেপ ফিলিস্তিনি জনগণের ইচ্ছাকে ভাঙতে বা তাদের দৃঢ়তাকে দুর্বল করতে পারবে না। আর এগুলো তাদের স্বাধীনতা, স্বনির্ভরতা এবং পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য তাদের বৈধ সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া থেকেও বিরত রাখতে পারবে না।"

ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই আইনটিকে "ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য এবং বর্ণবাদী সহিংসতার একটি কাজ" হিসেবে নিন্দা করেছে। ইসরায়েলের নাগরিক অধিকার সংস্থা জানিয়েছে, তারা এই আইনের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেছে। সূত্র: রয়টার্স