সৌদি ব্যবসায়ীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, মানবাধিকার মহলে উদ্বেগ

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে সৌদি আরবে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মহলে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। 

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ৪২ বছর বয়সী সৌদ আল-ফারাজের মৃত্যুদণ্ড ‘রাজকীয় নির্দেশ’ এবং অনুমোদনের পর বুধবার (১ এপ্রিল) কার্যকর করা হয়। ২০২২ সালে তাকে কাতিফ অঞ্চলে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া, ‘সন্ত্রাসী সেল’ পরিচালনা এবং পুলিশ সদস্য হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। খবর মিডল ইস্ট আইয়ের।

মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দেশের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং শরিয়া আইনের বিধান বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই শাস্তি কার্যকর করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারিও দেয়া হয়। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, আল-ফারাজ শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন এবং তাকে নির্যাতনের মাধ্যমে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়। দীর্ঘ ২১ মাস একাকী কারাবাসসহ নানা নির্যাতনের অভিযোগও ওঠে।

তিনি ২০১১ সালের আরব বসন্ত আন্দোলনের সময় পূর্বাঞ্চলের শিয়া অধ্যুষিত কাতিফে গণতান্ত্রিক সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভে অংশ নেন। এই অঞ্চলের শিয়া জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের অভিযোগ করে আসছে।

সমালোচকদের মতে, কট্টরপন্থি শাসক মুহাম্মদ বিন সালমানের শাসনামলে সামাজিক সংস্কারের পাশাপাশি বিরোধীদের ওপর কঠোর দমন-পীড়নও বেড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে রেকর্ড ৩৪০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের সুযোগে সমালোচকদের দমন আরও জোরদার করা হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে।