দামেস্ক, সিরিয়া: ইসরায়েলি পার্লামেন্ট ‘নেসেট’-এ ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য মৃত্যুদণ্ড প্রদানের বিতর্কিত একটি আইন পাস হওয়ার পর এর প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে সিরিয়া। গত মঙ্গলবার ও বুধবার সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কসহ দেশটির প্রায় প্রতিটি বড় শহরে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে এই আইনের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন।
আনাদোলু এজেন্সির প্রতিনিধি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও চিত্র অনুযায়ী, এই বিক্ষোভ কেবল রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। দামেস্কের গ্রামীণ এলাকা ছাড়াও দারা, কুনেইত্রা, হোমস, হামা, লাতাকিয়া, আলেপ্পো এবং ইদলিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশগুলোতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা সিরিয়া ও ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে নিয়ে মিছিল করেন। তারা এই ‘অমানবিক’ আইন অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান এবং গাজার জনগণের প্রতি তাদের সংহতি প্রকাশ করেন।
প্রবল বৃষ্টি এবং তীব্র শীত উপেক্ষা করে সিরিয়ার ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরগুলোতেও গণবিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশেষ করে দামেস্কের ইয়ারমুক, আলেপ্পোর নেইরাব এবং লাতাকিয়ার আল-রামল শিবিরের বাসিন্দারা পায়ে হেঁটে, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং মোটরসাইকেলে করে বিশাল মিছিল বের করেন।
দারা এবং কুনেইত্রা প্রদেশে বিক্ষোভকারীরা অধিকৃত সিরীয় গোলান মালভূমির দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে এবং সতর্কবার্তা দিতে ইসরায়েলি বাহিনী আকাশে ইলুমিনেশন ফ্লেয়ার (আলোকবর্তিকা) নিক্ষেপ করে।
গত সোমবার ইসরায়েলের নেসেট এই আইনটি পাস করে। নতুন এই আইন অনুযায়ী, ইসরায়েলি প্রিজন সার্ভিসের নিযুক্ত রক্ষীরা ফিলিস্তিনি বন্দিদের ফাঁসি দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে। এই প্রক্রিয়ায় রক্ষীদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে এবং তাদের কোনো প্রকার আইনি জবাবদিহিতার আওতায় আনা যাবে না। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই আইনটিকে মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। সিরিয়ার বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই আইন কার্যকর করার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের আন্দোলন দমানো যাবে না।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি