বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে করোনাভাইরাসের ওমিক্রন পরিবারের নতুন একটি উপ-ধরন, যার ডাকনাম দেওয়া হয়েছে 'সিকাদা' (Cicada)। বৈজ্ঞানিকভাবে এটি BA.3.2 নামে পরিচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (CDC) বর্তমানে এই ভ্যারিয়েন্টটির ওপর কড়া নজর রাখছে।
কোথায় কোথায় ছড়িয়েছে
২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর এই 'সিকাদা' ভ্যারিয়েন্টটি ইতিমধ্যে বিশ্বের অন্তত ২৩টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও অন্তত ২৫টি অঙ্গরাজ্যে এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে স্বস্তির খবর হলো, এটি এখনো মূল প্রভাবশালী বা ডমিন্যান্ট স্ট্রেইন হয়ে ওঠেনি।
ভ্যারিয়েন্টটি কতটা শক্তিশালী
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সিকাদা ভ্যারিয়েন্টটিতে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫টি মিউটেশন (রূপান্তর) ঘটেছে। বিখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ল্যানসেট-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে প্রচলিত করোনা ভ্যাকসিনগুলো অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় সিকাদার বিরুদ্ধে কিছুটা কম কার্যকর। তবে এটি পুরোপুরি সুরক্ষা দেয় না—এমনটি নয়, কিছুটা প্রতিরোধ ক্ষমতা অবশ্যই বজায় রাখে।
এটি কি খুব মারাত্মক
এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিকাদা আক্রান্তদের মধ্যে খুব বেশি গুরুতর লক্ষণ বা হাসপাতালে ভর্তির হার লক্ষ্য করা যায়নি। ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটির সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. উইলিয়াম শ্যাফনার বলেন, "এটি আমাদের অর্জিত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কিছুটা ফাঁকি দেওয়ার ক্ষমতা রাখলেও, এর কারণে প্রাণহানি বা ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরির প্রমাণ এখনো মেলেনি।"
উপসর্গ ও করণীয়
সিকাদা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তদের সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, গলা ব্যথা এবং নাক বন্ধ থাকা। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন:
- যাদের বয়স ৬৫ বছরের বেশি বা যারা দীর্ঘস্থায়ী রোগে (হৃদরোগ, ফুসফুসের সমস্যা বা ডায়াবেটিস) ভুগছেন, তাদের দ্রুত বুস্টার ডোজ নেওয়া উচিত।
- গ্রীষ্মকালীন সম্ভাব্য সংক্রমণ এড়াতে মে মাসের শেষ বা জুনের শুরুতে ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
সূত্র: সিবিসি নিউজ