ইরানের খারগ দ্বীপে আবারও ভয়াবহ বিমান হামলা

ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপে (Kharg Island) আবারও ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী। দেশটির তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র এই দ্বীপের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভোরের দিকে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটে।

জ্যেষ্ঠ এক আমেরিকান কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা পার হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে এই হামলা চালানো হয়। 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক দিন আগে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, তেহরান আত্মসমর্পণ না করলে ইরানের প্রতিটি সেতু ‘ধ্বংসস্তূপে পরিণত’ করা হবে। দেশটির প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘কার্যত অচল’ করে দেওয়া হবে।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের খারগ দ্বীপে মঙ্গলবার ভোররাতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান দ্বীপে একাধিক বিমান হামলা চালায়। তবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে দাবি করেন, খারগ দ্বীপের সব সামরিক লক্ষ্যবস্তু ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করা হয়েছে। তিনি ইরানের জ্বালানি তেল ‘নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার’ আগ্রহও প্রকাশ করেন। এজন্য ইরানের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখলের বিষয়টি বিবেচনায় আছে বলে ইঙ্গিত দেন। 

ইরানের বিরুদ্ধে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা শুরু হয়। এতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ প্রায় দেড় হাজার মানুষ এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলার তীব্রতা বেড়েছে।