ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের প্রভাবে তেহরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে কাজ করা বিদেশি কর্মীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় ধাপে ধাপে এসব কেন্দ্র ছেড়ে চলে যাচ্ছেন তারা। সবশেষ ইরানের একটি পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে ১৭৫ জন রুশ কর্মীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তারা ইতোমধ্যে রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) তুরস্কের সংবাদ সংস্থা ‘আনাদোলু’ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে কর্মরত ওই কর্মীরা নুরদুজ-আগারাক সীমান্ত দিয়ে প্রথমে প্রতিবেশী দেশ আর্মেনিয়ায় প্রবেশ করেন। সেখান থেকে সোমবার একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারা মস্কোর উদ্দেশে রওনা হন। আর্মেনিয়ায় অবস্থিত রুশ দূতাবাস জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আর্মেনিয়া হয়ে মোট ৫০৯ জন রুশ নাগরিক ইরান ছেড়েছেন।
রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা ‘রোসাটম’-এর প্রধান অ্যালেক্সেই লিখাচেভ জানিয়েছেন, বুশেহরে কর্মরত অধিকাংশ রুশ নাগরিককে সফলভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট কর্মীদের আগামী সপ্তাহের মধ্যে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে।
এদিকে, ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সুযোগ পেলে তিনি ইরানের বিশাল তেলের ভাণ্ডার ‘দখলে নিতে’ চান।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমার ইচ্ছা হলে আমি তেল রেখে দিতাম। আমার নজর ওটার দিকেই। তবে আমেরিকার সাধারণ মানুষ এখন যুদ্ধের সমাপ্তি দেখতে চায়, আর আমি দেশের মানুষকে খুশি রাখতে চাই। তাই আপাতত আমি তেলের দখল নিচ্ছি না।’
পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে বিদেশি কর্মীদের প্রস্থান ইরানের সামরিক ও জ্বালানি গবেষণার ক্ষেত্রে বড় ধরণের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি