ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এখন চূড়ান্ত ও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ইরানজুড়ে বড় ধরণের তাণ্ডব শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী। 

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দিনভর ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সেতু, রেললাইন এবং মহাসড়কগুলো লক্ষ্য করে নজিরবিহীন বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তেহরান, কারাজ, তাবরিজ, কাশান এবং কোমসহ বিভিন্ন শহরের অন্তত আটটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে হামলা চালিয়ে সেগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানিদের রেললাইন থেকে দূরে থাকার সতর্কবার্তা দিয়েছিল আইডিএফ। আধা-সরকারি মেহের নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, কাশান শহরে একটি রেল সেতুতে হামলায় অন্তত ২ জন নিহত হয়েছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তাবরিজ-তেহরান মহাসড়ক এবং তাবরিজ ও জানজানের মধ্যবর্তী প্রধান সড়কগুলো ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে কুরেহ চামান-মিয়ানে সড়কসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুট উভয় দিক থেকেই বন্ধ রয়েছে। খুজেস্তান প্রদেশের আহভাজ শহরেও সড়ক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ডেডলাইন ঘনিয়ে আসতেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক প্রলয়ংকরী পোস্ট দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি লিখেছেন,‘আজ রাতে একটি গোটা সভ্যতার মৃত্যু হবে, যা আর কখনও ফিরে আসবে না। ৪৭ বছরের জুলুম, দুর্নীতি ও মৃত্যুর অবসান ঘটবে আজ রাতেই।’


ট্রাম্প গত রোববারই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, মঙ্গলবার হবে ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংসের দিবস’। তার দেওয়া চূড়ান্ত সময়সীমা অনুযায়ী, মার্কিন সময় মঙ্গলবার রাত ৮টা (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টা)-র মধ্যে ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। অন্যথায় পুরো দেশ এক রাতেই ‘শেষ’ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তেহরানের শরিফ বিশ্ববিদ্যালয় এবং বুশেহরের পেট্রোকেমিক্যাল কারখানাতেও বড় ধরণের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা পার হওয়ার পর পেন্টাগন আরও বড় কোনো অভিযানের পথে হাঁটে কি না, তা নিয়ে সারা বিশ্ব এখন চরম আতঙ্কে রয়েছে।