সৌদি আরামকো তেল স্থাপনায় ইরানের হামলা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় সৌদি আরবের প্রধান তেল শোধনাগার ও পাইপলাইনে হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলার ফলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির একমাত্র বিকল্প পথটি এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। 

বুধবার (৮ এপ্রিল) রয়টার্স ও সিএনএন-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ESA) থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, সৌদি আরবের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র ‘আবকাইক’ (Abqaiq) থেকে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উড়ছে। চিত্রটি স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ১০টার দিকে ধারণ করা হয়েছে, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার অল্প সময় পরের ঘটনা। আরামকোর তথ্যমতে, এই স্থাপনাটি বিশ্ববাজারের মোট তেলের চাহিদার প্রায় ৫ শতাংশ একাই সরবরাহ করে।

ইরান আগেই কৌশলগত ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দেওয়ায় সমুদ্রপথে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি স্থবির হয়ে পড়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরব তাদের পূর্ব উপকূলের তেলক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের ‘ইয়ানবু’ বন্দরে নিয়ে যাচ্ছিল। এটিই ছিল বর্তমানে দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানির একমাত্র সচল মাধ্যম। ইরানের এই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সেই ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইনটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ড ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘আরামকো’ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ঘটনাস্থলে জরুরি উদ্ধারকারী দল কাজ করছে বলে জানা গেছে। এই হামলার মাধ্যমে ইরান মূলত ট্রাম্পের দেওয়া যুদ্ধবিরতির শর্তগুলোকে চ্যালেঞ্জ করলো বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

সৌদি আরবের প্রধান রপ্তানি রুটটি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বজুড়ে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট তৈরি হবে। ইতোমধ্যে ইয়ানবু বন্দর দিয়ে রপ্তানি হওয়া তেলের ওপর ভরসা করে বিশ্ববাজার কিছুটা স্থির হওয়ার চেষ্টা করছিল, কিন্তু নতুন এই হামলা দামকে আবারও আকাশচুম্বী করে তুলবে। সূত্র: রয়টার্স ও সিএনএন।