বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা নতুন মাত্রা নিয়েছে। হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের মাইন অপসারণের চেষ্টা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে এবং ইরানি বাহিনীর চরম হুঁশিয়ারির মুখে মার্কিন নৌবাহিনী পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে ইরানের জাতীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি এসব তথ্য জানান।
গালিবাফ জানান, পাকিস্তানে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র গোপনে হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণের চেষ্টা চালায়। ইরান একে যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘন হিসেবে দেখেছে।
গালিবাফ বলেন, ‘আমি ইসলামাবাদে অবস্থানরত আমেরিকান প্রতিনিধিদলকে সরাসরি বলেছিলাম- আপনাদের মাইনসুইপার জাহাজ যদি বর্তমান অবস্থান থেকে সামান্যতম সামনে এগোয়, তবে আমরা অবশ্যই সরাসরি গুলি চালাব।’
তিনি আরও দাবি করেন, এই হুমকির পর মার্কিন বাহিনী ফিরে যাওয়ার জন্য ১৫ মিনিট সময় চেয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত তারা সেখান থেকে সরে যায়।
দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে স্পিকার গালিবাফ বলেন, ‘প্রিয় ইরানি জনগণ, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমেরিকা কয়েক দিনের জন্য আমাদের ওপর যে নৌ-অবরোধ ঘোষণা করেছে, তা অত্যন্ত বেপরোয়া ও অজ্ঞতাপূর্ণ সিদ্ধান্ত। এমন হতে পারে না যে অন্যরা প্রণালি দিয়ে চলাচল করবে কিন্তু আমরা পারব না। যদি যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ প্রত্যাহার না করে, তবে এই পথে নৌ-চলাচল অবশ্যই সীমিত করা হবে।’
ইরানের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেসব বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করছে, তা মূলত ইরানের নির্ধারিত নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হচ্ছে। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছিলেন যে জাহাজ চলাচলের জন্য পথটি উন্মুক্ত রয়েছে। তবে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ নতুন করে স্পষ্ট করেছেন যে, একটি অভিন্ন নীতিমালায় একমত না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন কোনো আলোচনা শুরু হবে না।