এশীয় মিত্রদের মার্কিনিদের হারানোর কৌশল ও অস্ত্র দিতে চায় ইরান

এশিয়ার বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে নিজেদের তৈরি উন্নত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন বাহিনীকে মোকাবিলা করার বাস্তব অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে চায় ইরান। বিশেষ করে ‘সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা’ (এসসিও)-এর সদস্য দেশগুলোকে এই বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে অনুষ্ঠিত এসসিওভুক্ত দেশগুলোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠকে ইরানের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী রেজা তালেই-নিক এই আগ্রহের কথা জানান। 

বৈঠকে ইরানি উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী সরাসরি বলেন, ‘এই জোটের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে আমরা মার্কিনিদের পরাজিত করার অভিজ্ঞতার বিষয়টি ভাগ করে নিতে প্রস্তুত আছি।’ মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অভিজ্ঞতাই মিত্রদের জানাতে চায় তেহরান। গত কয়েক মাসে ইরান যেভাবে মার্কিন ড্রোন ও যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটিতে নিখুঁত নিশানায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, সেই প্রযুক্তি ও কৌশল এশীয় মিত্রদের শিখিয়ে দিতে আগ্রহী তারা।

কিরগিজস্তান সফরের সময় বেলারুশ ও রাশিয়ার শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আলাদা বৈঠক করেছেন রেজা তালেই-নিক। ওই বৈঠকে মস্কো ও মিনস্ক তেহরানের সঙ্গে সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ত্রিপক্ষীয় ঐক্য এশিয়ায় মার্কিন আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী দেয়াল তৈরি করতে পারে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই পদক্ষেপ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার একটি সুদূরপ্রসারী কৌশল। এসসিও-তে ভারত, পাকিস্তান, চীন ও রাশিয়ার মতো শক্তিগুলো থাকায় ইরানের এই প্রস্তাব ভূ-রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে।

বর্তমানে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের সদস্য সংখ্যা ১০টি। ইরান ছাড়াও এই জোটে রয়েছে চীন, রাশিয়া, বেলারুশ, ভারত, পাকিস্তান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তান। সূত্র: রয়টার্স