লেবাননে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি বর্তমানে কেবল নামেই টিকে আছে, বাস্তবে এটি একটি ‘কূটনৈতিক কাঠামো’ (Diplomatic Construct) ছাড়া আর কিছুই নয়। বৈরুত থেকে আল-জাজিরার প্রতিনিধি রোরি চ্যাল্যান্ডস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, লেবাননের রাজধানী শান্ত থাকলেও দক্ষিণাঞ্চলে যুদ্ধের তীব্রতা কমেনি, বরং এর পরিধি আরও বাড়ছে।
গত তিন সপ্তাহ ধরে বৈরুতে ইসরায়েলি কোনো হামলা না হলেও ইসরায়েল সীমান্ত সংলগ্ন দক্ষিণ লেবাননের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সম্প্রতি নাবাতিহ জেলার ৯টি গ্রামের বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য ‘ফোর্সড ইভাকুয়েশন’ বা জোরপূর্বক উচ্ছেদ আদেশ জারি করেছে। ইসরায়েলের দাবি, ওই এলাকায় হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে তারা হামলা চালাতে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, এই গ্রামগুলো ইসরায়েলের স্বঘোষিত ‘ইয়েলো লাইন’ বা ১০ কিলোমিটার গভীর বাফার জোনের বাইরে অবস্থিত। ইসরায়েল এই এলাকাটিকে আগেই জনশূন্য এবং উন্মুক্ত গোলাবর্ষণের অঞ্চল (Open-fire Demolition Zone) হিসেবে ঘোষণা করে রেখেছিল। এখন উচ্ছেদ আদেশের আওতায় আসা নতুন গ্রামগুলোর মধ্যে অনেকগুলোতে এর আগে কখনো ঘরবাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তবে এর মধ্যেই গত শুক্রবার হাব্বুশ গ্রামে চালানো এক হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন।
এছাড়া ইসরায়েলি বাহিনী ইয়েলো লাইনের ভেতরে থাকা আরও দুটি জনপদে হামলা চালিয়েছে। সামরিক এই তৎপরতা বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে যে, ইসরায়েলি অভিযানগুলো লেবাননের সীমানার আরও গভীরে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি থাকলেও মাঠপর্যায়ে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড প্রমাণ করছে যে, তারা লেবাননের অভ্যন্তরে তাদের নিয়ন্ত্রিত বা ‘টার্গেট জোন’ ক্রমান্বয়ে বড় করছে।