২০২৩ ও ২০২৪ সালে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির পর যারা হিজবুল্লাহকে ‘নিঃশেষ’ বলে ঘোষণা করেছিলোেন, বর্তমানে তারা তাদের সেই মূল্যায়ন নিয়ে নতুন করে ভাবছেন। বার্ড কলেজের হিউম্যান রাইটস ও মিডল ইস্টার্ন স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জিয়াদ আবু-রিশের মতে, গত ২ মার্চ থেকে হিজবুল্লাহ যে সক্ষমতা দেখাচ্ছে, তাতে ইসরায়েলি সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্ব রীতিমতো বিস্মিত।
আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আবু-রিশ বলেন, গত কয়েক মাসের ঘটনাবলি প্রমাণ করে যে হিজবুল্লাহ আসলে এক ধরনের ‘কৌশলগত ধৈর্য’ (Strategic Patience) প্রদর্শন করছিলো। তারা পাল্টা আঘাত করার জন্য সঠিক সময়, স্থান এবং পরিস্থিতির অপেক্ষায় ছিলো।
আবু-রিশ ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তথাকথিত এই ‘যুদ্ধবিরতি’ চলাকালীন ইসরায়েল লেবাননে ৩০০-এর বেশি মানুষকে হত্যা করেছে, ৯০০-এর বেশি মানুষকে আহত করেছে এবং ১০,০০০ বারের বেশি লেবাননের আকাশসীমা ও ভূখণ্ড লঙ্ঘন করেছে। এছাড়া প্রায় ৬৫,০০০ লেবানিজকে তাদের নিজ গ্রামে ফিরতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ২ মার্চ হিজবুল্লাহর জন্য উপযুক্ত জবাব দেওয়ার একটি সুযোগ তৈরি করে দেয়। সংগঠনটি এখন পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা আর কোনো কৌশলগত ধৈর্য দেখাবে না; বরং প্রতিটি আক্রমণের তাৎক্ষণিক জবাব দেবে। মাঠে এখন সেই বাস্তবতাই দেখা যাচ্ছে।
লেবাননে ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র তুলে ধরে আবু-রিশ জানান, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত লেবাননে ২,৫০,০০০-এর বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার দীর্ঘ ইতিহাস পর্যালোচনা করলে তাদের তথাকথিত ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত করার’ দাবিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া কঠিন।