বেন গভিরকে ‘শতাব্দীর জল্লাদ’ আখ্যা দিলো মানবাধিকার কর্মীরা

ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভিরের ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আইন পাসের প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। মানবাধিকার সংস্থা 'রেড রিবন ক্যাম্পেইন' ফিলিস্তিনিদের ওপর এই বর্বর আইন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টার দায়ে ইসরায়েলি উগ্র-ডানপন্থী রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী বেন গভিরকে 'শতাব্দীর জল্লাদ' (Hangman of the century) হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্তমানে ইসরায়েলি কারাগারে অন্তত ৯,১০০ ফিলিস্তিনি অবৈধভাবে বন্দি রয়েছেন। প্রস্তাবিত এই আইন কার্যকর হলে এসব বন্দিদের একটি বড় অংশ সরাসরি মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকির মুখে পড়বেন। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো সতর্ক করে বলেছে, বেন গভির বর্ণবাদ এবং ‘অপারথাইড’ নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতেই ফিলিস্তিনি বন্দিদের ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলানোর এই উন্মাদনায় মেতেছেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে ৩,৫৩২ জন ফিলিস্তিনিকে কোনো বিচার বা অভিযোগ ছাড়াই 'প্রশাসনিক আটক' নীতির আওতায় বন্দি করে রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৪২ জন শিশু এবং ৮৪ জন নারী রয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনিদের গণগ্রেপ্তারের মাত্রা বহুগুণ বেড়েছে।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ইতামার বেন গভির সম্প্রতি তার ৫০তম জন্মদিনে একটি বিশেষ কেক কাটেন, যার ওপরে নকশা হিসেবে একটি 'ফাঁসির দড়ি' যুক্ত ছিল। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকে এআই-প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি ফাঁসির মঞ্চের ভিডিও আপলোড করে তিনি দাবি করেছেন যে, তিনি ফিলিস্তিনিদের ফাঁসি দেওয়ার স্বপ্ন দেখেন। গত ৩০ মার্চ ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে ৬২-৪৮ ভোটে এই বিতর্কিত মৃত্যুদ্ণ্ড বিলটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় পাঠ অনুমোদিত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই পদক্ষেপকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং যুদ্ধের উস্কানি হিসেবে দেখছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বেন গভিরের এই রক্তক্ষয়ী পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাকে আরও ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যাবে। সূত্র: আলজাজিরা