যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নেওয়া দেশগুলো হরমুজে বাধার মুখে পড়বে: ইরান

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা যেসব দেশ মেনে চলবে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ পার হওয়ার সময় সেসব দেশকে চরম বাধার মুখে পড়তে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক ও সংসদীয় কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, এই জলপথে এখন থেকে ইরানের নিজস্ব আইনি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।

রোববার (১০ মে) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এবং কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইরানের সামরিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আকরামিনিয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা হরমুজ প্রণালিতে একটি নতুন আইনি ও নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করেছি। এখন থেকে যেকোনো জাহাজ এই পথ দিয়ে পার হতে চাইলে অবশ্যই আমাদের (ইরান) সাথে সমন্বয় করতে হবে। বিশেষ করে যারা আমাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুসরণ করবে, তাদের জন্য এই পথ অতিক্রম করা কঠিন হয়ে পড়বে।’

ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হামিদরেজা হাজিবাবাই জানিয়েছেন, এই প্রণালি ব্যবহারের ওপর আরোপিত নতুন শুল্ক বা টোল থেকে তেহরান ইতোমধ্যে রাজস্ব আয় শুরু করেছে। সামরিক মুখপাত্র আকরামি নিয়্যা দাবি করেছেন, চলমান যুদ্ধবিরতির সময়টিকে ইরান তার সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে কাজে লাগাচ্ছে। তারা ইতোমধ্যে পরবর্তী যুদ্ধের জন্য তাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকা হালনাগাদ করেছে এবং প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক অবস্থানে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে।

এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের এই বিধি-নিষেধের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে একটি খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইন। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো ক্ষমতার অধিকারী দেশ রাশিয়া এই প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। রাশিয়া সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইনের এই খসড়া প্রস্তাব আটকে দিতে প্রস্তুত।

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি বাহরাইনের মতো ক্ষুদ্র দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিতে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিয়ে হঠকারী কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না। হরমুজ প্রণালি একটি জীবনরেখা; নিজেদের জন্য এই পথ চিরতরে বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি নেবেন না।’

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরানের এই অনমনীয় অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা এবং জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি করছে। সূত্র: এএফপি।