যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে, ২০২৬) এশীয় বাণিজ্যের শুরুর দিকেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। মূলত ইরানের দেওয়া সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপহাসের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করার পর বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আজ মঙ্গলবার সকালে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম প্রতি ব্যারেলে ৩০ সেন্ট বা ০.২৯ শতাংশ বেড়ে ১০৪.৫১ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৩১ সেন্ট বা ০.৩২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি ব্যারেল ৯৮.৩৮ ডলারে। এর আগে গতকাল সোমবারও উভয় ধরনের তেলের দাম প্রায় ২.৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একে অপরকে পাল্টাপাল্টি হুমকির কারণে তেলের সরবরাহ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা এবং সংঘাতের কোনো কূটনৈতিক সমাধান না আসায় জ্বালানি রপ্তানি দীর্ঘমেয়াদে ব্যাহত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের এই অস্থিরতা যদি দ্রুত প্রশমিত না হয়, তবে আগামী দিনগুলোতে বিশ্ব অর্থনীতি আরও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: আলজাজিরা