পারস্য উপসাগরের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন উদ্বেগ তৈরি করে ইরান তাদের হারানো সামরিক সক্ষমতা দ্রুত পুনরুদ্ধার করছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালির কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে থাকা নিজেদের ৩৩টি মিসাইল সাইটের মধ্যে ৩০টিই ইতোমধ্যে কার্যকর অবস্থায় ফিরিয়ে এনেছে তেহরান। গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার পরেও ইরানের এই দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়টি পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে অবাক করেছে।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, এই পুনরুদ্ধারকৃত সাইটগুলোর কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ, জ্বালানিবাহী ট্যাঙ্কার এবং বিদেশি যুদ্ধজাহাজগুলো এখন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরানি বাহিনী এই সাইটগুলোতে অত্যাধুনিক 'মোবাইল লঞ্চার' প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এর ফলে তারা খুব অল্প সময়ের মধ্যে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে মিসাইল সরিয়ে নিতে পারে, যা প্রতিপক্ষের জন্য আগাম শনাক্ত করা কঠিন করে তোলে।
এছাড়াও অনেক সাইটে স্থায়ী লঞ্চ প্যাডগুলোও সংস্কার করা হয়েছে, যেখান থেকে যেকোনো মুহূর্তে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব। মার্কিন গোয়েন্দারা স্বীকার করেছেন যে, তাদের ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে ৩৩টি সাইটের মধ্যে মাত্র ৩টি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছিল।
এদিকে, একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে সৌদি আরবের সরাসরি হস্তক্ষেপ। রয়টার্সের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত মার্চ মাসে সৌদি আরব প্রথমবারের মতো ইরানের মাটিতে একাধিক সরাসরি গোপন হামলা চালিয়েছে। মূলত ইরানের পক্ষ থেকে আসা বিভিন্ন উস্কানিমূলক হামলার প্রতিশোধ নিতেই রিয়াদ এই পদক্ষেপ নেয়। যদিও সৌদি কর্তৃপক্ষ ইরানের ঠিক কোন কোন সামরিক স্থাপনায় আঘাত হেনেছে, তা এখনও প্রকাশ করেনি। একদিকে ইরানের মিসাইল সাইট পুনরুদ্ধার এবং অন্যদিকে সৌদি আরবের এই গোপন হামলা সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালি তথা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য এখন এক চরম অনিশ্চয়তা ও সংঘাতের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস, রয়টার্স