খাশোগি হত্যাকাণ্ডে বিভাগীয় তদন্ত শুরু, ফেঁসে যাচ্ছেন সৌদি যুবরাজ

সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে ফ্রান্সে বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হচ্ছে। কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠনের যৌথ আবেদনের পর এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউরোপভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইউরো নিউজ।

ফ্রান্সের ন্যাশনাল অ্যান্টি-টেররিজম প্রসিকিউটরস অফিস (পিএনএটি) গতকাল শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। দেশটির মানবাধিকার সংগঠনগুলোর করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে একজন ফরাসি তদন্তকারী বিচারক এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ ও সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখবেন।

ইউরো নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মূলত মানবাধিকার সংস্থা ট্রায়াল ইন্টারন্যাশনাল এবং রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ)-এর যৌথ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্যারিসের একটি আপিল আদালত এই মামলাটি আমলে নেয়ার আদেশ দেন। এরপরই পিএনএটি-র ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ ইউনিট’-এর একজন বিচারককে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়।

একটি সুসংগঠিত দলের মাধ্যমে নির্যাতন ও জোরপূর্বক গুম করার অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, যুবরাজ তার অধীনস্থদের দিয়ে খাশোগিকে ‘হত্যার’ সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন।

আপিল বিভাগ পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, জামাল খাশোগির ওপর চালানো এই নৃশংসতাকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না।

এর আগে ২০২২ সালের জুলাই মাসে সৌদি যুবরাজের ফ্রান্স সফরের সময় প্রথম এই আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। তবে ফ্রান্সের রাষ্ট্রীয় কৌঁসুলি বা প্রসিকিউটর অফিস প্রথম দিকে এই তদন্ত শুরুর বিরোধিতা করে। তাদের যুক্তি ছিল, এই ধরনের আন্তর্জাতিক অপরাধের বিষয়ে মামলা করার আইনি এখতিয়ার বা যোগ্যতা ফরাসি এনজিওগুলোর নেই।

প্রসিকিউশনের এই অবস্থানকে তখন তীব্র সমালোচনা করেছিলেন আরএসএফ-এর আইনজীবীরা। পরে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আপিল আদালত এনজিওগুলোর পক্ষে রায় দেন।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট ও প্রখ্যাত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে তার লাশ টুকরো টুকরো করে গুম করা হয়, যা আজ পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো শুরু থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সরাসরি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে দায়ী করে আসছে।