যুক্তরাষ্ট্রের ৫ শর্তের জবাবে যা বললো ইরান

স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ ও শত্রুতা অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া পাঁচ দফা শর্তের আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে ইরান। সোমবার (১৮ মে) তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে ওয়াশিংটনের প্রস্তাবগুলোকে ‘অতিরিক্ত’ ও ‘অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করেছে ইরান।

রোববার ইরানি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া পাঁচটি শর্তের মধ্যে প্রধান দুটি হলো- ইরানকে কেবল একটি পারমাণবিক স্থাপনা চালু রাখতে হবে এবং তাদের কাছে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পুরো মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই আলোচনা ও প্রস্তাব বিনিময় অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের উদ্বেগগুলো মার্কিনিদের জানিয়েছি। ইরান তার জব্দকৃত সম্পদ পুরোপুরি মুক্ত করা এবং দীর্ঘদিনের অন্যায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে অনড় রয়েছে। এছাড়া এই অবৈধ ও ভিত্তিহীন যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘মেহর নিউজ’ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে যা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে, আলোচনার টেবিলে কোনো ছাড় না দিয়েই তা আদায় করতে চাইছে। এতে আলোচনা অচলাবস্থার দিকে যাচ্ছে বলে তারা মন্তব্য করেছে।

এদিকে, আলোচনার মাঝেই ইরানের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার গভীর রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক বার্তায় ট্রাম্প কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছেন, ‘ইরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। তারা যদি দ্রুত আমাদের দাবি মেনে না নেয়, তবে দেশটির আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। সময় এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দ করা সম্পদের মাত্র ২৫ শতাংশ মুক্ত করতে রাজি হয়েছে এবং ইরান আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনায় না বসা পর্যন্ত শত্রুতা বন্ধ করবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে বাঘায়ি জানিয়েছেন, যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত।’ সূত্র: ইউরোনিউজ