গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে রওনা হওয়া আন্তর্জাতিক ত্রাণবহর ফ্লোটিলা থেকে ১১ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিককে আটক করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। গত সোমবার আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই নৌযানগুলোকে গতিরোধ করে অংশগ্রহণকারীদের ধরে নিয়ে যায় ইসরায়েল।
আটককৃতদের নিরাপত্তা ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ইসরায়েলের কাছে জরুরি তথ্য চেয়েছে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগ (DFAT)। অস্ট্রেলীয় সরকারের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তারা বর্তমানে আটককৃত নাগরিকদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। তারা স্পষ্টভাবে ইসরায়েলকে জানিয়েছে যে, আটককৃতদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী মানবিক আচরণ করতে হবে।
তবে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া সরকার তাদের আবারও সতর্ক করেছে। সরকার জানিয়েছে, তারা গাজার মানবিক পরিস্থিতির বিষয়ে মানুষের আবেগ বুঝতে পারছে, কিন্তু কেউ যেন ইসরায়েলের নৌ-অবরোধ ভাঙার এই প্রচেষ্টায় যোগ না দেয়। কারণ এতে তারা নিজেদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলছে এবং গ্রেপ্তার বা নির্বাসনের মতো পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটককৃত কয়েকশ স্বেচ্ছাসেবীর মধ্যে ১১ জন অস্ট্রেলীয় রয়েছেন যারা মূলত গাজায় সাহায্য পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন।
ত্রাণকর্মীদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর এই ধরনের আচরণ অস্ট্রেলিয়ার জন্য একটি স্পর্শকাতর বিষয়। উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের এপ্রিলে গাজায় ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের হয়ে কাজ করার সময় ইসরায়েলি হামলায় অস্ট্রেলীয় ত্রাণকর্মী জোমি ফ্র্যাঙ্ককমসহ সাতজন নিহত হয়েছিলেন। সেই স্মৃতি এখনো দগদগে থাকা অবস্থায় নতুন করে এই আটকের ঘটনা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বর্তমানে অস্ট্রেলীয় প্রশাসন তাদের নাগরিকদের মুক্তি এবং কনস্যুলার সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা