যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য চুক্তি ঘিরে নেতানিয়াহুর উদ্বেগ, জরুরি বৈঠকের ডাক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি বা সমঝোতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। এই চুক্তির কয়েকটি বিশেষ ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। 

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রোববার (২৪ মে) সন্ধ্যায় একটি জরুরি ও সীমিত পরিসরের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা বৈঠক ডেকেছেন তিনি।

ইসরায়েলের সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘কান’ এবং ‘দ্য টাইমস অব ইসরায়েল’-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনারত খসড়া চুক্তির দুটি সুনির্দিষ্ট ধারা নিয়ে নেতানিয়াহুর চরম আপত্তি রয়েছে। প্রথমটি হলো লেবাননে যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী এবং দ্বিতীয়টি হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত আলোচনা অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেওয়া। নেতানিয়াহু মনে করছেন, এই শর্তগুলো ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এর আগে শনিবার (২৩ মে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দাবি করেন যে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে একটি বড় সমঝোতা চুক্তির দ্বারপ্রান্তে রয়েছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্পের মতে, চুক্তির অধিকাংশ বিষয় চূড়ান্ত হয়েছে এবং এর আওতায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় বাণিজ্যিকভাবে খুলে দেওয়া হবে।

ট্রাম্প এই চুক্তির বিষয়ে কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এছাড়া তিনি ব্যক্তিগতভাবে নেতানিয়াহুর সঙ্গেও টেলিফোনে আলোচনা করেছেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ‘বড় অগ্রগতির’ দাবির মধ্যেই ইসরায়েলের ভেতরে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ছাড় দেওয়া বা লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা সীমিত করার কোনো শর্ত ইসরায়েল মেনে নেবে না। আজকের নিরাপত্তা বৈঠকে এই চুক্তির বিপরীতে ইসরায়েলের পরবর্তী অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।