২০০৬ সালের পর এই প্রথম দক্ষিণ লেবাননের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লিটানি নদী অতিক্রম করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। নদী পার হয়ে তারা দক্ষিণ লেবাননের অন্যতম বড় শহর নবাতিয়াহকে চারদিক থেকে ঘেরাও করার অবস্থানে পৌঁছে গেছে।
শনিবার (৩০ মে) লেবাননের সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সূত্রগুলো বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েল এই লিটানি নদীকে তাদের অনানুষ্ঠানিক 'বাফার জোন' বা অন্তর্বর্তী অঞ্চলের সীমানা হিসেবে ঘোষণা করেছিল, যা এখন তারা লঙ্ঘন করল। বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনী শিয়া-সংখ্যাগরিষ্ঠ নবাতিয়াহ শহরের উপকণ্ঠে অবস্থান করছে। শহরটি দক্ষিণ লেবাননের অর্থনীতি ও সংস্কৃতির একটি অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। ঐতিহাসিক বিভিন্ন ইসরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই শহরের পতন হলে তা চলমান যুদ্ধ ও যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রে একটি বড় মোড় ঘুরিয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নবাতিয়াহর কাছাকাছি একটি গাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোনের হামলায় লেবানন সেনাবাহিনীর দুই সেনা সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া জিবচিত গ্রামে ড্রোন হামলায় এক প্যারামেডিক নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, বফোর্ট দুর্গের কাছেও ইসরায়েলি বিমান ও কামানের গোলাবর্ষণ লক্ষ্য করা গেছে। পাল্টা আঘাত হিসেবে হিজবুল্লাহও উত্তর ইসরায়েলের কিরিয়াত শমোনা, নাহারিয়া এবং ইয়ারার ব্যারাক লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। গান্দৌরিয়াহর কাছে হিজবুল্লাহর অতর্কিত হামলায় ইসরায়েলি সেনারা পিছু হটতে বাধ্য হয় বলেও গোষ্ঠীটি দাবি করেছে।
লেবানন সরকারের সাথে শান্তি আলোচনা চলমান থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের অন্তত ১০টি গ্রামের বাসিন্দাদের অবিলম্বে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক এবং নজিরবিহীন’ উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘পোড়ামাটি নীতি’ কখনো ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না। এ সংকটের মধ্যেই লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাথে ফোনে কথা বলেছেন এবং ইসরায়েল যাতে বর্তমান যুদ্ধবিরতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে, সেই গুরুত্বারোপ করেছেন।