হরমুজ প্রণালিতে চলমান জাহাজ চলাচল সংকটের প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনীতিতে। বাণিজ্যিক কার্যক্রমে স্থবিরতা, পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন এবং বন্দরের কার্যক্রম কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও নৌপরিবহন সংশ্লিষ্টদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাস–এ পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বাজারে অনেক পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন দোকান ও গুদামের তাক প্রায় খালি হয়ে যাচ্ছে এবং নতুন চালান পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগছে।
অন্যদিকে বন্দরে পণ্য খালাস ও কাস্টমস সংশ্লিষ্ট কর্মীরা বলছেন, আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে বন্দরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হাজারো শ্রমিক ও কর্মচারীর আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
জাহাজের ক্যাপ্টেন ও নৌপরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকট এবং নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধের কারণে জাহাজ চলাচলে ব্যাপক বিলম্ব হচ্ছে। আগে কোনো জাহাজের ছাড়পত্র পেতে যেখানে মাত্র ৩০ মিনিট সময় লাগত, এখন সেখানে অপেক্ষা করতে হচ্ছে প্রায় দুই দিন পর্যন্ত।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ায় উপকূলীয় অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবীরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে জীবিকা ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড আরও বড় সংকটের মুখে পড়তে পারে।
ইরানের দক্ষিণ উপকূলজুড়ে বন্দরনির্ভর অর্থনীতি বহু মানুষের আয়ের প্রধান উৎস। ফলে হরমুজকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই অস্থিরতা শুধু আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেই নয়, স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলছে। সূত্র: আলজাজিরা