আলজাজিরার বিশ্লেষণ

ইরানের পররাষ্ট্রনীতি কি সত্যিই ঐকমত্যভিত্তিক

ইরানের পররাষ্ট্রনীতি ও বিশেষ করে পারমাণবিক আলোচনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফওয়াদ ইজাদি। তিনি বলেছেন, ইরানের পররাষ্ট্রনীতি একক সিদ্ধান্তে নয়, বরং এক ধরনের ঐকমত্যভিত্তিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে, যেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ক্ষমতাকেন্দ্র একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে।

তার ব্যাখ্যায় উঠে আসে, দেশের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল, যার নেতৃত্বে থাকেন প্রেসিডেন্ট এবং এতে শীর্ষ মন্ত্রী ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বিভাগের প্রধানরা অন্তর্ভুক্ত থাকেন, তারা বড় ধরনের নীতিগত বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা সুপারিশ তৈরি করে। এই সুপারিশই পরবর্তীতে সর্বোচ্চ নেতার কাছে পাঠানো হয় চূড়ান্ত পর্যালোচনার জন্য।

ইজাদি বলেন, সেই প্রস্তাবনা সর্বোচ্চ নেতার পর্যায়ে পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হয় এবং সাধারণত সেটি অনুমোদনও পায়। তবে বিশেষ এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে সর্বোচ্চ নেতার নিজস্ব ভূমিকা ও প্রভাব থাকে, যা পুরো প্রক্রিয়াকে চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা দেয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন বলেন ইরানের নতুন নেতৃত্ব নীতিগত সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে, সেটি একেবারে অমূলক নয়। তার মতে, বাস্তবতায় নেতৃত্বের স্তরে পরিবর্তন সবসময়ই সিদ্ধান্ত গ্রহণে কিছুটা প্রভাব ফেলে।

ইজাদি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা কোনো রাজতন্ত্র বা একক শাসকের মতো নয়। এটি এমন একটি কাঠামো যেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কেন্দ্রের মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, এবং সেই কারণেই এটিকে তিনি ঐকমত্যভিত্তিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেন। সূত্র: আলজাজিরা