শান্তি আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে পাকিস্তান ও লেবাননের সেনাপ্রধানের বৈঠক

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও শান্তি আলোচনা ধীরগতিতে এগোতে থাকার প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় বসেছেন পাকিস্তান ও লেবাননের সেনাপ্রধানেরা। মঙ্গলবার (৯ জুন) পাকিস্তানে এক বৈঠকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

দুই দেশের  সামরিক বাহিনীর প্রধানেরা সামরিক সহযোগিতা ও সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। 

বর্তমানে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। ইরান দাবি করেছে, যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তিতে অবশ্যই লেবাননের পরিস্থিতিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে, যেখানে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে।

লেবাননের সেনাপ্রধান রদোলফ হায়কাল শনিবার পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে দেশটিতে যান। লেবাননভিত্তিক একটি সূত্র জানায়, এই সফর বৃহত্তর আঞ্চলিক শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর জানিয়েছে, বৈঠকে দুই সেনাপ্রধান পারস্পরিক স্বার্থ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা করেন। এ সময় জেনারেল আসিম মুনির লেবাননের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দেন। বৈঠকের আগে রাওয়ালপিন্ডিতে লেবাননের সেনাপ্রধানকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

লেবাননের সংঘাত সাম্প্রতিক আঞ্চলিক শান্তি আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। সফরের সময়ও সেখানে সংঘর্ষ অব্যাহত থাকে।

এর মধ্যেই ইরান ও ইসরায়েল সোমবার জানিয়েছে, তারা সাময়িকভাবে লড়াই বন্ধে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, শান্তি আলোচনা এখন “চূড়ান্ত পর্যায়ে” রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, লেবানন এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে যখন হিজবুল্লাহ ২ মার্চ ইসরায়েলের দিকে রকেট হামলা চালায়। এর জবাবে ইসরায়েল ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে, যাতে প্রায় তিন হাজার ছয়শ জন নিহত হন।

যদিও একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তারপরও দুই পক্ষের মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল, কিন্তু পরবর্তীতে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়।

এছাড়া, এপ্রিলের সতেরো তারিখের যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী লেবাননের ভেতরে একটি ‘ইয়েলো লাইন’ নির্ধারণ করে অবস্থান নিয়েছে। সেখানে স্থল বাহিনী হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত রয়েছে এবং উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।