ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতনের একটি ব্যর্থ পরিকল্পনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে সরিয়ে দিয়েছেন ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান রোমান গফম্যান। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেল টুয়েলভের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরিয়ে দেওয়া দুই কর্মকর্তার একজন গত ডিসেম্বর থেকে মোসাদের গোয়েন্দা অধিদপ্তরের প্রধান এবং অন্যজন সংস্থাটির ইরানবিষয়ক বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ইরানের সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে দেশটিতে নতুন করে ব্যাপক বিক্ষোভ উসকে দিয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটানোর লিখিত পরিকল্পনার অন্যতম স্থপতি ছিলেন তারা।
চ্যানেল টুয়েলভ জানিয়েছে, গফম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ওই দুই কর্মকর্তার সঙ্গে তার মতবিরোধ ছিল। তবে নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলেছে, তাদের সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে হয়েছে এবং মোসাদের বৃহত্তর সাংগঠনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে তারা অন্য দায়িত্বে সংস্থাটিতে থাকবেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোসাদের ওই পরিকল্পনায় ইরাক সীমান্তসংলগ্ন ইরানের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অবস্থানগুলোতে ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমে কুর্দি যোদ্ধাদের ইরানে প্রবেশের পথ তৈরি করার কথা ছিল। এরপর দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কুর্দি শহরগুলোতে তাদের অগ্রসর হওয়ার মাধ্যমে একটি বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়।
পরিকল্পনাটির অন্যতম লক্ষ্য ছিল হাজারো তরুণ কুর্দিকে এই আন্দোলনে যুক্ত করা এবং তা শেষ পর্যন্ত তেহরান পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়া। একই সঙ্গে ইরানে লাখো মানুষের বিক্ষোভের মাধ্যমে সরকার পতনের পরিস্থিতি তৈরি করার পরিকল্পনাও ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের আগের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পরিকল্পনায় ইরানের সাবেক কট্টরপন্থী প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে দেশটির সম্ভাব্য নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে আহমাদিনেজাদের কার্যালয় মোসাদের সাবেক প্রধান ডেভিড বার্নিয়ার সঙ্গে তার কথিত যোগাযোগের খবর অস্বীকার করেছে।
চ্যানেল টুয়েলভের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনী, সামরিক ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, পুলিশ স্টেশন ও বাসিজ বাহিনীর স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালায়। কুর্দি যোদ্ধাদের অগ্রসর হওয়ার পরিবেশ তৈরি করাও এসব হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তবে সংবাদমাধ্যমে তথ্য ফাঁস, তুরস্কের লবিং এবং কুর্দিদের একাংশের অনাগ্রহের কারণে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এদিকে, সরকার পতনের পরিকল্পনার পাশাপাশি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং দেশটির পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি থেকে সৃষ্ট হুমকি কমানোর লক্ষ্যেও অভিযান চালায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র: টাইমস অফ ইসরায়েল