গাজা সিটির একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর বেশিরভাগই নারী ও শিশুর। গাজার সিভিল ডিফেন্স এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) উদ্ধার অভিযান শেষ হয়। গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা মরদেহ উদ্ধারে চলমান ধীরগতির ও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হাতে পরিচালিত অভিযানের সর্বশেষ ঘটনা এটি। ভেঙে পড়া কংক্রিট সরানোর জন্য প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির তীব্র সংকট থাকায় এসব উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
উদ্ধার কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ আবু দান জানান, গাজার পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত ‘কারাম’ ভবনে টানা চার দিন অনুসন্ধান চালানোর পর উদ্ধারকাজ শেষ হয়েছে।
তিনি বলেন, এখন বিশেষায়িত চিকিৎসাকর্মী ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকারী দল গাজা সিটির অন্য একটি স্থানে যাবে। সেখানে তারা নতুন করে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করবে।
সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা বারবার জানিয়েছেন, ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে উদ্ধারকর্মীরা প্রাথমিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে অত্যন্ত কষ্টসাধ্যভাবে হাতে ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছেন। ইসরায়েলি হামলায় ধসে পড়া বিশাল কংক্রিটের স্ল্যাব সরানোর মতো প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি তাদের হাতে নেই।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পুরো ভূখণ্ডে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো ৮ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাব বলছে, গত বছরের ১১ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২৫৪ জন নিহত, ৪ হাজার ১২১ জন আহত এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮০৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান সংঘাতে গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে। এ সময়ে আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ।
সর্বশেষ এই মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন মঙ্গলবার গাজা সিটিতে আবু শারিয়া ও আল-হাসাইনা পরিবারের ১১২ সদস্যের গণদাফন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা