যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা গাজা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান ইসরায়েলের

গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের আগে হামাসকে সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্র হতে হবে বলে আবারও স্পষ্ট করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত বোর্ড অব পিসের প্রস্তাবিত ১৫ দফা গাজা পরিকল্পনাও প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল।

রোববার (৯ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন, হামাসকে প্রকৃত অর্থে নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী কোনোভাবেই প্রত্যাহার করা হবে না। তাঁর ভাষায়, এই নিরস্ত্রীকরণ হতে হবে বাস্তব, প্রতীকী বা কাগুজে নয়।

নেতানিয়াহু বলেন, হামাসের ভারী অস্ত্রের পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত হালকা অস্ত্রসহ পুরো অস্ত্রভাণ্ডারই হস্তান্তর করতে হবে। ইসরায়েলের কাছে শুধু অস্ত্র কমানো বা সীমিত করার কোনো ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য নয়।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে গাজার নিরাপত্তা ও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের প্রশ্নে তেল আবিব তার অবস্থান থেকে সরে আসবে না।

অন্যদিকে হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাসেম নাঈম বলেছেন, সংগঠনটি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কায়রোতে সম্মত হওয়া গাজার রোডম্যাপের প্রতি এখনো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি মধ্যস্থতাকারী ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি নেতানিয়াহু এবং তার সরকারকে ওই রোডম্যাপ মেনে চলতে চাপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

নেতানিয়াহুর অবস্থানে গাজা নিয়ে যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানে রূপ দেওয়ার পথে বড় ধরনের মতপার্থক্য আবারও স্পষ্ট হয়েছে। মূল বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে, হামাস আগে নিরস্ত্র হবে, নাকি ইসরায়েল আগে সেনা প্রত্যাহার করবে।

নেতানিয়াহু আরও বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় গাজা বা পশ্চিম তীরে কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হতে দেবেন না। তাঁর ভাষায়, গাজায় হামাসের শাসন কিংবা পশ্চিম তীরে ফাতাহর নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্র, কোনোটিই তিনি মেনে নেবেন না।

এদিকে ইরান প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু দাবি করেন, তেহরান ইসরায়েলে হামলা চালানো থেকে বিরত রয়েছে, কারণ তারা জানে ইসরায়েল পাল্টা শক্তিশালী আঘাত হানতে সক্ষম। ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের অংশীদারত্ব অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান। সূত্র: ফক্স নিউজ