ইরানে মার্কিন হামলার জবাব কঠোর হবে: গারিবাবাদি

ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেছেন, দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘনের যেকোনো ঘটনা ‘উপযুক্ত ও নির্ণায়ক’ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়বে।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় সোমবার (৩১ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এ সতর্কবার্তা দেন গারিবাবাদি। তিনি বলেন, ইরান এই ঘটনাকে দেশের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা হিসেবে বিবেচনা করছে।

ইরানের এই কূটনীতিক বলেন, যে মাত্রাতেই দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর হামলা হোক না কেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তার জবাব দিতে প্রস্তুত। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতেও দেশটির সামরিক বাহিনী এ অবস্থান স্পষ্ট করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গারিবাবাদি মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিদেশি সামরিক বাহিনী প্রত্যাহারেরও দাবি জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, এ অঞ্চল থেকে বিদেশিদের উপস্থিতি দূর করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে তাদের ‘গুরুতর শিক্ষা’ দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে জর্ডানের কিং হুসেইন ও আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসি দাবি করে, লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই ওই অভিযান চালানো হয়।

একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে আরও হামলা হলে তার চেয়েও ‘ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়া’ দেখানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি।

অন্যদিকে, ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন হেলিকপ্টার ও সামরিক সদস্যদের লক্ষ্য করে কয়েক ডজন হামলাকারী ড্রোন পাঠানো হয়েছে। সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযান চালানো হয়।

ইরানি কূটনীতিকের সর্বশেষ বক্তব্য এবং দেশটির সামরিক বাহিনীর পাল্টা হামলার দাবি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, দেশের ভূখণ্ডে যেকোনো নতুন হামলার জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা কঠোর অবস্থান নেবে।