ইউক্রেনে চলমান সামরিক অভিযানের জন্য এই মুহূর্তে রাশিয়ার নতুন করে সেনা সমাবেশের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। নতুন করে সামরিক বাহিনীতে লোক নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সেটিকে ইউক্রেনের ছড়ানো অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভ্লাদিভস্তকে অনুষ্ঠিত ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরামের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় পুতিন এসব কথা বলেন।
রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমানে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, যার কারণে দেশে নতুন করে সেনা সমাবেশ করতে হবে। তাঁর দাবি, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর প্রচারণার অংশ হিসেবেই রাশিয়ায় নতুন সেনা নিয়োগ বা সমাবেশের গুঞ্জন ছড়ানো হচ্ছে।
পুতিন বলেন, চলতি মাসের শেষ দিকে রাশিয়ায় অনুষ্ঠেয় স্টেট ডুমা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতেই এ ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, রুশ নাগরিকরা স্বেচ্ছায় সেনাবাহিনীতে যোগ দিচ্ছেন এবং চুক্তির ভিত্তিতে সামরিক বাহিনীতে কাজ করছেন।
এর আগে ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধে একের পর এক সামরিক বিপর্যয়ের পর রাশিয়ায় আংশিক সেনা সমাবেশের নির্দেশ দিয়েছিলেন পুতিন। ওই সময় প্রায় ৩ লাখ রিজার্ভ সেনাকে ডাকার কথা জানিয়েছিল ক্রেমলিন।
২০২২ সালের ওই সিদ্ধান্ত রাশিয়ায় ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এর পর সামরিক বয়সী বহু রুশ নাগরিক দেশ ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকেই ক্রেমলিন বারবার নতুন করে সেনা সমাবেশের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে দাবি করে আসছে।
তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত জুলাইয়ে দাবি করেছিলেন, শরৎকালে নতুন করে সেনা সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে মস্কো। তাঁর মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে দেশটি নতুন সেনা সংগ্রহের পথে যেতে পারে।
এদিকে চলতি বছরে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার অগ্রযাত্রার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ড্রোন ব্যবহারের কারণে দ্রুত ও বড় পরিসরে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার গত জুলাইয়ে জানিয়েছিল, মস্কো নতুন করে সেনা সমাবেশের সম্ভাব্য পরিস্থিতি তৈরির দিকে এগোতে পারে। যুদ্ধকালীন সময়ে আরও বিভিন্ন শ্রেণির দণ্ডিত ব্যক্তিকে সেনাবাহিনীতে নিয়োগের সুযোগ দিয়ে রাশিয়ায় নতুন আইন পাসের বিষয়টিও তারা এর অন্যতম ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করেছিল।
সংস্থাটির মতে, নতুন করে সেনা সমাবেশের সিদ্ধান্তটি মূলত পুতিনের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি এবং ক্রেমলিনের স্থিতিশীলতা সম্পর্কে পুতিনের নিজস্ব মূল্যায়নই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকে উভয় পক্ষেরই ব্যাপক সামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে রাশিয়া নতুন করে সেনা সমাবেশের পথে যাবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা থাকলেও পুতিনের সর্বশেষ বক্তব্যে আপাতত এমন কোনো পদক্ষেপের সম্ভাবনা নাকচ করা হয়েছে। সূত্র: আরব নিউজ