একতরফাবাদ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ ব্রিকস: পেজেশকিয়ান

একতরফাবাদ মোকাবিলা এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে ব্রিকস গুরুত্বপূর্ণ একটি প্ল্যাটফর্ম বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে তেহরান ছাড়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।

পেজেশকিয়ান বলেন, অর্থনীতি, বাণিজ্য, শিল্প ও বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্কে বহুপাক্ষিকতা জোরদারের সুযোগ তৈরি করেছে ব্রিকস। চীন, রাশিয়া, ব্রাজিল, ভারতসহ গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর অংশগ্রহণের কারণে জোটটি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় আলোচনার জন্যও কার্যকর মঞ্চ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইরানের প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ব্রিকসের সদস্যসংখ্যা ২১। এর মধ্যে ১১টি পূর্ণ সদস্য এবং ১০টি অংশীদার দেশ রয়েছে, যাদের ব্রিকস প্লাস হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এসব দেশ বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশের বেশি এবং বৈশ্বিক ভূখণ্ডের প্রায় ৩৫ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে।

পেজেশকিয়ান বলেন, ব্রিকসের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো একতরফাবাদ মোকাবিলা করা এবং দেশগুলোকে নিজেদের স্বাধীনতা বজায় রেখে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের সুযোগ দেওয়া। এবারের সম্মেলনের মূল আলোচনায় সংহতি, স্থায়িত্ব, স্থিতিস্থাপকতা ও উদ্ভাবনের মতো বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ব্রিকসের আর্থিক কাঠামোর মধ্যে নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ভূমিকাও তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান। তার মতে, এই ব্যাংক সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিনিয়োগ ও যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক লেনদেনে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর ওপরও জোর দেন তিনি।

পেজেশকিয়ান বলেন, বিকল্প আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে উঠলে অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হওয়ার পাশাপাশি একতরফা চাপ মোকাবিলায় দেশগুলোর সক্ষমতা বাড়তে পারে।

ইরান-ভারত সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন তিনি। দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে পেজেশকিয়ান বলেন, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।

নয়াদিল্লি সফরে পেজেশকিয়ান ব্রিকস নেতাদের মূল বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি ব্রিকস নেতাদের অর্থনৈতিক ফোরাম এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা ও বহুপাক্ষিকতা জোরদার নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নেবেন। এ ছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টসহ বিভিন্ন দেশের নেতা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করার কথা রয়েছে।

পেজেশকিয়ান বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি বর্তমানে জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিষয়ে কয়েকটি শক্তির দীর্ঘদিনের প্রভাব মোকাবিলায় নতুন চিন্তা ও উদ্ভাবনী পদ্ধতি প্রয়োজন। ব্রিকস সম্মেলনে ইরানের অংশগ্রহণ দেশটির জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। সূত্র: ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি