ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের মধ্যে প্রায় ৫০০ শরণার্থী জিবুতির উপকূলীয় শহর ওবকে পৌঁছেছেন। জিবুতির অর্থনীতি ও অর্থমন্ত্রী ইলিয়াস দাওয়ালেহ এ তথ্য জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, শরণার্থীদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। সমুদ্রে জ্বালানি শেষ হয়ে বিপদে পড়া কয়েকটি নৌকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। জিবুতির সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি শরণার্থীদের জরুরি সহায়তা দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ইয়েমেনে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর দেশটির অভ্যন্তরে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, গত সপ্তাহে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার পর থেকে ইয়েমেনে অন্তত ৪৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ‘প্রতি ঘণ্টায়’ বাড়ছে। ফলে নতুন করে মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইয়েমেনের সংঘাতের প্রভাব শুধু দেশটির অভ্যন্তরেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। নিরাপত্তাহীনতা ও যুদ্ধের কারণে অনেক মানুষ সমুদ্রপথে প্রতিবেশী দেশগুলোতে পালানোর চেষ্টা করছেন। এর মধ্যে জিবুতি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় জ্বালানি শেষ হয়ে নৌকা ভেসে যাওয়ার মতো ঘটনাও শরণার্থীদের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
জিবুতির ওবক শহরটি ইয়েমেনের কাছাকাছি হওয়ায় যুদ্ধ ও অস্থিরতার সময়ে এটি শরণার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে সমুদ্রপথে বিপজ্জনক যাত্রা এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের আগমনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ওপরও বাড়তি মানবিক চাপ তৈরি হচ্ছে।
জাতিসংঘের হিসাবে, ইয়েমেনে সাম্প্রতিক বাস্তুচ্যুতির সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় খাদ্য, আশ্রয়, চিকিৎসা ও নিরাপদ পানির মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটানো আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি হলে সীমান্ত পেরিয়ে নতুন করে শরণার্থী প্রবাহও দেখা দিতে পারে।