আঞ্চলিক উত্তেজনার জেরে চীনে বাড়লো পেট্রোল-ডিজেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামের পরিবর্তনের কারণে পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরা মূল্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন। শনিবার থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) চীনের জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশন (এনডিআরসি) জ্বালানির নতুন মূল্য ঘোষণা করে। সংস্থাটি দেশটির অর্থনৈতিক পরিকল্পনার শীর্ষ প্রতিষ্ঠান।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি টন পেট্রোলের দাম ২৬০ ইউয়ান বা প্রায় ৩৮ দশমিক ৭৬ মার্কিন ডলার এবং ডিজেলের দাম ২৫০ ইউয়ান বা প্রায় ৩৭ দশমিক ২৭ ডলার বাড়ানো হয়েছে।

মূল্য সমন্বয়ের পর চীনে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম দাঁড়াবে ৭ দশমিক ৯৬ ইউয়ান বা প্রায় ১ দশমিক ১৯ ডলার। অন্যদিকে পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে ৮ দশমিক ২৫ থেকে ৮ দশমিক ৬৮ ইউয়ানের মধ্যে থাকবে, যা প্রায় ১ দশমিক ২৩ থেকে ১ দশমিক ২৯ ডলারের সমান।

সিনহুয়ার প্রতিবেদনে এনডিআরসির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, গত ২৮ আগস্ট চীনের সর্বশেষ পরিশোধিত জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে যে পরিবর্তন এসেছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই এবার জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশ চীনে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠানামার সঙ্গে অভ্যন্তরীণ জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের বিষয়টি অর্থনীতি ও ভোক্তাদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় থেকে শুরু করে পণ্য সরবরাহ ও উৎপাদন খরচেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে, যা বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

চীনের সর্বশেষ মূল্য সমন্বয় তাই শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারের বিষয় নয়; আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব কতটা গভীর হচ্ছে, তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।