সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের কুর্দি-অধ্যুষিত কোবানি শহরের একটি কারাগারে দাঙ্গা ও অগ্নিকাণ্ডে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। শনিবারের (১২ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনায় শহরটিতে কুর্দি ও আরবদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা জানিয়েছে, আগের দিন শহরে কুর্দি ও আরবদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার পর কারাগারের বন্দীরা দাঙ্গায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে কারাগারে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোর একটি কারাগারে কয়েকজন বন্দীকে স্থানান্তরের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে দাঙ্গার সূত্রপাত হয়।
কোবানি দীর্ঘদিন ধরে কুর্দি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে তুরস্ক সীমান্তবর্তী এ শহরে সম্প্রতি সিরিয়ার সরকারি বাহিনী প্রবেশ করলেও কারাগারটি এখনো কুর্দি যোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।
এর এক দিন আগে, শুক্রবার কোবানিতে আরেক দফা দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। এক কুর্দি ব্যক্তিকে হত্যার জন্য আরবদের দায়ী করে কুর্দিদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে কেন্দ্র করে কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনী ও দামেস্কের নতুন সরকারের মধ্যে টানাপোড়েনের মধ্যেই কারাগারের এ ঘটনা ঘটল। সাম্প্রতিক সময়ে অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নতুন সরকারের হাতে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ জোরদার হয়েছে।
কোবানি সিরিয়ার সাম্প্রতিক যুদ্ধের ইতিহাসেও গুরুত্বপূর্ণ স্থান। প্রায় এক দশক আগে ইসলামিক স্টেটের অবরোধের মুখে পড়া শহরটি পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত কুর্দি অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে পরিণত হয়। ২০১৯ সালে জঙ্গিগোষ্ঠীটির সিরিয়ায় নিয়ন্ত্রিত শেষ ভূখণ্ডও হারানোর মধ্য দিয়ে সেই অভিযানের সমাপ্তি ঘটে।
এদিকে গত আগস্টের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) কমান্ডার সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক বিলুপ্তির ঘোষণা দেন। একসময় সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কার্যত স্বায়ত্তশাসিত একটি অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করত সংগঠনটি। সূত্র: আরব নিউজ