সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলার ঘটনায় ইরান ও ইরাক যৌথ তদন্তে সম্মত হয়েছে। ইরানের অনুরোধের পর ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি ফালেহ আল-জাইদি যৌথ তদন্তে সম্মতি দিয়েছেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স।
ইরাক-ইরান সীমান্তের কাছে ড্রোন উৎক্ষেপণের কয়েকটি প্ল্যাটফর্ম শনাক্ত হওয়ার পর এ তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব স্থাপনা থেকে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে হামলা চালানো হয়েছিল বলে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
তদন্তে সীমান্তবর্তী এলাকায় উৎক্ষেপণস্থলগুলো কীভাবে সেখানে স্থাপিত হয়েছিল এবং সেগুলো ব্যবহার করে সৌদি তেল অবকাঠামোয় হামলা চালানোর পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে।
এরই মধ্যে হামলার উৎস ইরাকের ভূখণ্ডে ছিল বলে বাগদাদ স্বীকার করেছে। হামলার পর ইরাক একজন সামরিক কমান্ডারকে বরখাস্ত করেছে এবং দায়ীদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে।
হামলার পর সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি তেল রপ্তানির বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনটি দেশটির জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ইরাকের উদ্যোগে হামলার পর সৌদি আরব তাৎক্ষণিক পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার সিদ্ধান্তও জানিয়েছে। একই সময়ে বাগদাদ ইরান সীমান্তের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথ বন্ধ করে নিরাপত্তা জোরদার করেছে।
যৌথ তদন্তের উদ্যোগ এমন এক সময়ে এল, যখন ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ ঘিরে বাগদাদের ওপর আঞ্চলিক চাপ বাড়ছে। নতুন তদন্তে ড্রোন উৎক্ষেপণস্থলগুলোর সঙ্গে হামলাকারীদের যোগসূত্র এবং ইরাকের ভূখণ্ড কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, তা স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষা রয়েছে। সূত্র: ডন