ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে মানবিক পরিস্থিতি। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সংস্থা ওসিএইচএ জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে দেশটিতে অন্তত ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। একই সঙ্গে বাড়ছে বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও।
ওসিএইচএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরু থেকে অন্তত ১৮ হাজার পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে যেতে বাধ্য হয়েছে। সংঘাতের কারণে অনেক পরিবারকে বারবার স্থান পরিবর্তন করতে হচ্ছে। এতে তাদের খাদ্য, পানি, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের প্রয়োজনও বাড়ছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কয়েক হাজার পরিবারকে জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় এ সহায়তার পরিমাণ অত্যন্ত কম। পর্যাপ্ত অর্থায়ন না থাকায় ত্রাণের মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সরবরাহ এখন সংকটজনকভাবে নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
নিরাপত্তাহীনতায় বন্ধ মানবিক কার্যক্রম
ওসিএইচএ জানিয়েছে, ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের বেশ কয়েকটি এলাকায় নিরাপত্তাহীনতার কারণে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ও চলাচল এখনো স্থগিত রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কও সীমিত অথবা পুরোপুরি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এর ফলে সংঘাতকবলিত এলাকায় খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী পৌঁছানো কঠিন হয়ে উঠেছে। যেসব মানুষ ইতোমধ্যে ঘরবাড়ি হারিয়েছেন, তাদের কাছে সহায়তা পৌঁছাতে এই যোগাযোগ সংকট বড় বাধা তৈরি করছে।
অর্থায়নের ঘাটতিতে বাড়ছে ঝুঁকি
জাতিসংঘের মানবিক সংস্থাগুলোর জন্য পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট, অবকাঠামোর ক্ষতি এবং নতুন করে বাস্তুচ্যুতির ঢেউ সব মিলিয়ে ইয়েমেনে মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংঘাত অব্যাহত থাকলে শুধু নতুন করে মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিই বাড়বে না, বরং খাদ্য ও চিকিৎসাসহ মৌলিক সেবার ওপরও চাপ বাড়বে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু, নারী, বয়স্ক ও আগে থেকেই বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো।
ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি এবং মানবিক সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত না হলে আগামী দিনগুলোতে সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে জাতিসংঘের মানবিক সংস্থাগুলো।