ইরানের জনগণ গত ২০০ দিনের সংঘাতের মধ্যে বিদেশি দখলদারিত্ব ও হস্তক্ষেপের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঠেকিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক বার্তায় তিনি বলেন, এই ২০০ দিনকে শুধু নিরাপত্তা বা সামরিক সংঘাত হিসেবে দেখলে চলবে না; এটি ইরানের আধুনিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমর্থনে টানা ২০০ রাত জনগণের সমাবেশের পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া ওই বার্তায় রেজাই বলেন, গত দুই শতাব্দীতে ইরান বারবার বিদেশি আগ্রাসন, দখলদারিত্ব ও হস্তক্ষেপের মুখোমুখি হয়েছে। জাতীয় শক্তির দুর্বলতা এবং জনগণের মধ্যে ঐক্যের ঘাটতি বিভিন্ন সময়ে ইরানকে পরাজয়, দখলদারিত্ব, অসম চুক্তি এবং দেশের কিছু অংশ হারানোর দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রেজাই বলেন, ইতিহাসের এসব অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, জনগণ যখন দেশকে নিজেদের বলে মনে করে এবং তা রক্ষায় দাঁড়ায়, তখন বিদেশি শক্তির হাত থেকে ইরানকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। তার দাবি, গত ২০০ দিনেও ইরানিরা একই দৃঢ়তা দেখিয়েছে এবং বিদেশি আগ্রাসনের মুখে দেশের প্রতিরক্ষায় নিজেদের সংকল্প স্পষ্ট করেছে।
তিনি বলেন, গত ২০০ দিনের সংঘাত প্রমাণ করেছে যে অতীতের সেই ইতিহাস আর পুনরাবৃত্তি হয়নি। দেশের মানুষের উপস্থিতি, ধৈর্য ও প্রতিরোধের মানসিকতা ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও স্বাধীনতা রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
রেজাইয়ের মতে, জনগণের এই উপস্থিতি ও প্রতিরোধ এখন ইরানের জাতীয় শক্তি ও প্রতিরোধক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিতে পরিণত হয়েছে। তার ভাষায়, দেশের প্রতি জনগণের এই অবস্থান বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় সক্ষমতাকে আরও দৃঢ় করেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আরও বলেন, গত ২০০ দিনের সময়কাল ইরানের অতীতের বিদেশি হস্তক্ষেপে সৃষ্ট কিছু ক্ষত সারিয়ে তোলার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি করেছে। তার বক্তব্যে দেশের স্বাধীনতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং জাতীয় ঐক্যকে এই সময়ের প্রধান অর্জন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সূত্র: ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি