সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কাসহ জেদ্দা, তাবুক, ইয়ানবু ও তাইফে হঠাৎই সম্ভাব্য বিপদের সতর্কবার্তা জারি করেছে দেশটির সিভিল ডিফেন্স। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) একযোগে পাঁচটি এলাকায় এই সতর্কতা জারি করা হলেও, বিপদের ধরন বা উৎস নিয়ে এখনো মুখ খোলেনি কর্তৃপক্ষ, যা জনমনে তৈরি করেছে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ।
সতর্কতা জারির পরপরই সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং সিভিল ডিফেন্সের নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়। তবে স্বস্তির খবরও এসেছে কিছুক্ষণের মধ্যেই-কিছু এলাকায় বিপদ কেটে যাওয়ার কথা পরে জানায় কর্তৃপক্ষ।
একই দিনে পাঁচ শহরে সতর্কতা, নেপথ্যে কী?
পবিত্র নগরী মক্কার পাশাপাশি লোহিত সাগরের তীরের গুরুত্বপূর্ণ দুই বন্দরনগরী জেদ্দা ও ইয়ানবু, পশ্চিমাঞ্চলের পর্যটন শহর তাইফ এবং উত্তর-পশ্চিমের তাবুক-সবগুলো এলাকাই ছিল বৃহস্পতিবারের এই সতর্কতার আওতায়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সৌদি আরবজুড়ে এমন জরুরি সতর্কবার্তা জারির ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। এর আগে জেদ্দা, তাইফ, ইয়ানবু, আল-উলা, খামিস মুশাইত, জাজান ও আবহায়ও একের পর এক সতর্কতা জারি হয়েছিল, যেগুলো পরে প্রত্যাহার করে নেয় সিভিল ডিফেন্স।
হুথি হামলার ছায়া, বাড়ছে দুশ্চিন্তা
এই ধারাবাহিক সতর্কতার সময়টি মোটেও কাকতালীয় নয় বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। কারণ ইয়েমেনের হুথি বাহিনীর সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে ইয়ানবু, তাইফ, বায়শ ও ফারাসান এলাকাতেও হামলার চেষ্টা ঠেকিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
তারও কিছুদিন আগে মক্কার দিকে ধেয়ে আসা একটি ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছিল সৌদি প্রশাসন-যদিও হুথিরা সরাসরি এই অভিযোগ অস্বীকার করে। আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো, ১৭ সেপ্টেম্বর তাইফে প্রতিহত করা একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে প্রাণ হারান এক ইয়েমেনি নাগরিক, আহত হন আরও দুজন।
নেপথ্যের কারণ এখনো অজানা
বৃহস্পতিবারের সতর্কবার্তায় সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ না থাকায় একে সরাসরি হুথিদের নতুন কোনো হামলার সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদি কর্তৃপক্ষ আকাশ ও স্থল নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতা নিচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষত মক্কা-জেদ্দার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহর এবং ইয়ানবুর মতো জ্বালানি-বন্দর অবকাঠামো-সংশ্লিষ্ট এলাকায় যেকোনো নিরাপত্তা সংকেতই বাড়তি গুরুত্ব বহন করে।
রয়টার্সও ইতিপূর্বে সৌদি আরবের একাধিক অঞ্চলে জারি হওয়া এমন সতর্কতার খবর দিয়েছিল, তবে সেসব ক্ষেত্রেও বিপদের প্রকৃতি স্পষ্ট করা হয়নি।
বৃহস্পতিবারের এই সতর্কতা সুনির্দিষ্ট কোনো সামরিক হুমকির জবাবেই জারি হয়েছিল কি না-সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। সৌদি কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কিছু না জানানো পর্যন্ত এই রহস্যের জট খোলার কোনো উপায় নেই।
এদিকে সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে বাসিন্দাদের প্রতি স্পষ্ট আহ্বান জানানো হয়েছে-সরকারি নির্দেশনা মেনে চলুন, সতর্ক থাকুন এবং যেকোনো গুজব থেকে দূরে থাকুন।