কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির দুই পাশই ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির সেনাবাহিনীর সমন্বয়বিষয়ক বিভাগের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়ারি। তিনি বলেছেন, প্রণালির পশ্চিমাংশ ও পারস্য উপসাগর ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে, আর পূর্বাংশ ও উত্তর ভারত মহাসাগর ইরানের সেনাবাহিনীর নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
হরমুজ প্রণালির সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে সাইয়ারি বলেন, হরমুজ প্রণালির পশ্চিমাঞ্চল, পুরো প্রণালি এবং পারস্য উপসাগর ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালির পূর্বাঞ্চল এবং উত্তর ভারত মহাসাগর ইরানের সেনাবাহিনীর নৌবাহিনীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তিনি বলেন, উত্তর ওমান সাগর এবং হরমুজের পূর্বাঞ্চলে ইরানের সেনাবাহিনী দৃঢ়ভাবে তৎপর রয়েছে। কাউকেই সেখান দিয়ে পার হতে দেওয়া হচ্ছে না। একইভাবে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সদস্যরাও নিজেদের অবস্থানে দৃঢ় রয়েছে। বাস্তবতা হলো, হরমুজ প্রণালি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সাইয়ারি বলেন, কৌশলগত এই জলপথের দুই পাশই দেশের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হরমুজের পূর্বাঞ্চল ইরানের সেনাবাহিনীর নৌবাহিনী এবং পশ্চিমাঞ্চল ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ করছে বলেও তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন।
ইরানের সেনাবাহিনী যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় উচ্চমাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বলেও দাবি করেন সাইয়ারি। তিনি বলেন, প্রতিটি যুদ্ধই কিছু শিক্ষা দেয়। সেনাবাহিনীর সদস্যদের সেই শিক্ষাগুলো আয়ত্ত করে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর কাজে প্রয়োগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাইয়ারি বলেন, সেনাবাহিনী নিজেদের দুর্বলতাগুলো শনাক্ত করেছে এবং সেগুলো দূর করার জন্য কাজ করছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, আজ বলা যায়, আগের তুলনায় ইরানের সেনাবাহিনী অনেক বেশি প্রস্তুত। সেনাবাহিনী ধীরে ধীরে নিজেদের দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠেছে, সক্ষমতা বাড়িয়েছে এবং যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।
ইরানের এই সেনা কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এদিকে চলমান যুদ্ধ এবং কৌশলগত এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। বর্তমানে এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা এক অঙ্কে নেমে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি