মধ্য সিরিয়ায় বাসে গুলিবর্ষণ, নিহত ৭

মধ্য সিরিয়ায় একটি বাসে গুলিবর্ষণের ঘটনায় সাতজন নিহত ও আরও চারজন আহত হয়েছেন। বুধবার হোমস প্রদেশে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

সরকারি সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে, হামলাকারীদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

এর আগে এএফপিকে দেওয়া এক প্রাথমিক তথ্যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়ায়।

নিরাপত্তা সূত্রটি জানায়, বাসটির যাত্রীদের মধ্যে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী ও শ্রমিকরা ছিলেন। নিহতদের মধ্যে সিরিয়ার বিদ্যুৎ কোম্পানির একজন কর্মীও রয়েছেন।

লন্ডনভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, নিহত ও আহতদের সবাই আলাউই সম্প্রদায়ের সদস্য। সিরিয়ার সংখ্যালঘু এই সম্প্রদায় গত কয়েক বছরে একাধিক হামলার শিকার হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটির উপকূলীয় অঞ্চলে সংঘটিত ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডেও ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল বলে সংগঠনটি দাবি করেছে।

২০২৪ সালের শেষ দিকে বাশার আল-আসাদের শাসনের পতনের পর থেকেই সিরিয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। রাজধানী দামেস্ক ও এর আশপাশের এলাকাতেও এ সময়ে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বাসে হামলার কিছুক্ষণ আগেই রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল, দামেস্কের কাছে দেশটির অন্যতম প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিকটবর্তী একটি গ্যাস পাইপলাইনে বিস্ফোরণ ঘটেছে। এর দুই দিন আগে পূর্ব সিরিয়ায় আরেকটি পাইপলাইনে নাশকতার ঘটনা ঘটে।

এর আগে গত ২২ আগস্ট দামেস্কের কাছে সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বহনকারী একটি বাসে বোমা হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন।

আগস্টের শুরুতে দামেস্কের কাছে খ্রিস্টান ও দ্রুজ সম্প্রদায়ের বসতি হিসেবে পরিচিত জারামানা শহরে একটি বাসে বিস্ফোরণের ঘটনায় ১৪ জন আহত হন।

এ ছাড়া জুলাইয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সিরিয়া সফরের সময় তিনি যে হোটেলে অবস্থান করছিলেন, তার কাছাকাছি এলাকায় দুটি বিস্ফোরণ ঘটে। ম্যাক্রোঁ তখন ঘটনাস্থলে ছিলেন না। ওই বিস্ফোরণে একজন নিহত ও ৩৬ জন আহত হন। পরে সিরীয় কর্তৃপক্ষ হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়ে দাবি করে, তারা ইসলামিক স্টেট বা দায়েশের সদস্য।

হোমসে সর্বশেষ বাসে হামলার দায় এখনো কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন স্বীকার করেনি। ফলে হামলার উদ্দেশ্য এবং এর পেছনে কারা রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।