গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার ৬০ শিশুসহ ১০০ ফিলিস্তিনির গণদাফন

গাজা সিটিতে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া শতাধিক ফিলিস্তিনির মরদেহের গণদাফন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৩ সালের ইসরায়েলি হামলায় নিহত এসব মানুষের স্বজনরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের প্রিয়জনদের মরদেহ খুঁজে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার জেইতুন এলাকার ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রায় ১০০ জনের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত ৬০ জন শিশু। পরিবারের সদস্যরা এসব দেহাবশেষ জেইতুন থেকে গাজা সিটির কেন্দ্রীয় আল-মামাদানি কবরস্থানে নিয়ে গিয়ে দাফন করেন।

উদ্ধার করা দেহাবশেষের অনেকগুলোই পূর্ণাঙ্গ মরদেহ নয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে দীর্ঘ সময় থাকার কারণে অনেক ক্ষেত্রে শুধু হাড়, দেহের অংশবিশেষ এবং নিহত ব্যক্তিদের সঙ্গে থাকা কিছু ব্যক্তিগত সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় পরিবারের জন্য এই দাফন ছিল দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। অনেক স্বজন বছরের পর বছর ধরে প্রিয়জনদের মরদেহ খুঁজে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে মালাকা পরিবারেরই ৫৫ জন সদস্য রয়েছেন।

গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধান রায়েদ আল-দাহশান জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো হাজার হাজার মানুষের মরদেহ থাকার আশঙ্কা রয়েছে। পর্যাপ্ত ভারী যন্ত্রপাতি ও উদ্ধার সরঞ্জাম পাওয়া গেলে এসব মরদেহ উদ্ধারে প্রায় ৯০ দিন সময় লাগতে পারে। কিন্তু প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না পাওয়া গেলে পুরো প্রক্রিয়া আরও কয়েক বছর ধরে চলতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

তিনি জানান, বড় আকারের খননযন্ত্র, উদ্ধারকর্মীদের সুরক্ষা সরঞ্জাম এবং দেহাবশেষ শনাক্ত করার জন্য বিশেষ অনুসন্ধান সরঞ্জামের প্রয়োজন। গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের তালিকাও দিয়েছে।

এদিকে, আল-তাজ টাওয়ারের ধ্বংসস্তূপ থেকেও ৫০০-এর বেশি মানুষের মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে স্থানীয় কর্মকর্তারা ও অধিকারকর্মীরা। এছাড়া একটি হামলায় নিহত আবু শারিয়া ও হাসানিয়া পরিবারের শতাধিক সদস্যের মরদেহও সাম্প্রতিক উদ্ধার অভিযানে পাওয়া গেছে।

জাতিসংঘের অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবাধিকার দপ্তরের প্রধান আজিত সুনঘাই বলেছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো হাজার হাজার মানুষ পড়ে থাকার বিষয়টি সংঘাতের ভয়াবহতার কথা মনে করিয়ে দেয়। তাঁর মতে, গাজার যেসব এলাকায় প্রবেশ কঠিন, সেখানে উদ্ধার কার্যক্রম আরও জটিল হয়ে পড়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৬৫১ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি।

দীর্ঘ সময় পর স্বজনদের দেহাবশেষ কবর দিতে পারা পরিবারগুলোর জন্য যেমন স্বস্তির, তেমনি ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো পড়ে থাকা হাজার হাজার মানুষের সন্ধান গাজার মানবিক সংকটের গভীরতাও তুলে ধরছে।