ফের হামলা হলে তা ‘ওয়াশিংটনের জন্য আত্মহত্যার শামিল’: রেজা নাঘদি

যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানে হামলা চালালে তা ওয়াশিংটনের জন্য ‘আত্মহত্যার শামিল’ হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডারের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাঘদি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাঘদি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ব্যবহার করেছে। তার দাবি, নতুন করে হামলা চালানো হলে সেটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না। নাঘদি বলেন, ‘তারা যদি নিজেদের হিসাব ও স্বার্থ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তারা আমাদের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা বন্ধ করবে। যদি না তারা মরিয়া হয়ে আত্মহত্যা করতে চায়।’

তবে নাঘদির এসব বক্তব্যের পক্ষে তিনি স্বাধীন কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সতর্ক করে আসছেন।

‘যুদ্ধের সবচেয়ে বড় অর্জন যুক্তরাষ্ট্রকে নামিয়ে আনা’
নাঘদি দাবি করেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো যুক্তরাষ্ট্রকে তার ‘পরাশক্তির অবস্থান’ থেকে নামিয়ে আনা। তিনি মার্কিন নৌবাহিনীর গতিবিধি সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি করলেও সেগুলোর পক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ দেননি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ব্যবহারের পরও ইরানের বিরুদ্ধে প্রত্যাশিত ফল অর্জিত হয়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত নাঘদির বক্তব্যে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক মাসে তাদের সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ব্যবহার করেছে। তবে এসব দাবি মূলত ইরানি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

নতুন হামলা হলে ‘যুদ্ধের ভূগোল বদলে যাবে’
এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে ইরান তার প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক অভিযান বদলে দেবে। তিনি বলেছিলেন, নতুন হামলা হলে অস্ত্র ও যুদ্ধের ‘ভূগোল’ পরিবর্তন করা হবে এবং এমন কিছু নতুন সক্ষমতা ব্যবহার করা হবে, যা আগে দেখা যায়নি। ইরান নতুন লক্ষ্যও চিহ্নিত করেছে বলে দাবি করেছিলেন তিনি। একই সময়ে ইরানের সামরিক সদর দপ্তরও যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সতর্ক করেছিল। তেহরান বলেছিল, এমন হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও স্বার্থ লক্ষ্য করে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিক উদ্যোগ
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও কূটনৈতিকভাবে সংঘাত কমানোর উদ্যোগের কথাও সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে ইরানের একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে প্রস্তাবটির বিষয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর ইরানের সেনাবাহিনীও সম্ভাব্য নতুন মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিল। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আক্রামিনিয়া বলেছিলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো নতুন সংঘাতের জন্য প্রস্তুত এবং নতুন হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

সংঘাত আবার ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা
নাঘদির সর্বশেষ বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা ফের বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তেহরান ধারাবাহিকভাবে বলছে, নতুন হামলা হলে এবার আগের তুলনায় ভিন্ন পদ্ধতিতে জবাব দেওয়া হবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো সামরিক অভিযান চালাবে কি না, সে বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ভিন্ন সময়ে ভিন্ন বার্তা এসেছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরাসরি নতুন সংঘাত শুরু হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

তবে ইরানি সামরিক নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো থেকে স্পষ্ট যে, তেহরান সম্ভাব্য নতুন মার্কিন হামলাকে কেন্দ্র করে সামরিক প্রস্তুতি ও পাল্টা আক্রমণের হুমকি দুটিই জোরদার করছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত জলপথ ঘিরে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।