মার্কিন হামলা থেকে মোজতবা খামেনির বেঁচে যাওয়া ছিলো ‘অলৌকিক’: ইরানি এমপি

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির বেঁচে যাওয়াকে ‘নিশ্চিতভাবেই অলৌকিক’ ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার আলী নিকজাদ।

শুক্রবার  (২ অক্টোবর) দেওয়া এক বক্তব্যে নিকজাদ বলেন, হামলার সময় মোজতবা খামেনি যেভাবে প্রাণে বেঁচে গেছেন, তা অলৌকিক ঘটনা ছাড়া অন্যভাবে ব্যাখ্যা করা কঠিন।

ইরানের পার্লামেন্টের এই কর্মকর্তা একই সঙ্গে দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ওয়াশিংটনের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। তাঁর ভাষ্য, হামলার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি এবং দেশটির রাজনৈতিক পরিবর্তনও ঘটানো যায়নি।

তবে নিকজাদের এসব বক্তব্য ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি মূল্যায়ন হিসেবে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোর কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং দেশটির কর্মসূচির ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী—এ নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য সীমিত।

মোজতবা খামেনি কীভাবে হামলা থেকে বেঁচে যান, তা নিয়ে গত কয়েক মাসে ইরানের ভেতর থেকেই বিভিন্ন বিবরণ সামনে এসেছে।

ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের সদস্য মোহসেন হায়দারি সম্প্রতি দাবি করেন, তেহরানের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ওই হাসপাতালেও হামলা হলে মোজতবা খামেনিকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে ইরানভিত্তিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনগুলোতে হামলার সময় তাঁর অবস্থান নিয়ে একাধিক ভিন্ন বিবরণ পাওয়া গেছে। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার সময় তিনি কোথায় ছিলেন এবং কীভাবে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন—তা নিয়ে প্রত্যক্ষ তথ্যের পরিবর্তে মূলত দ্বিতীয় পক্ষের বক্তব্যই পাওয়া যাচ্ছে।

মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়েও বিভিন্ন সময় পরস্পরবিরোধী দাবি এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত আগস্টে বলেছিলেন, তিনি বেঁচে আছেন বলে মনে করেন, তবে হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন। ইরানের পক্ষ থেকেও তাঁর আহত হওয়ার কথা বিভিন্ন সময়ে জানানো হয়েছে।

এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের ফলাফল নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। তেহরান বলছে, হামলা সত্ত্বেও দেশটির রাজনৈতিক কাঠামো ও সামরিক সক্ষমতা অক্ষত রয়েছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করার বিষয়টিকে অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আবারও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, নতুন করে বড় ধরনের মার্কিন হামলা হলে আরও বিস্তৃত পরিসরে পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। একই সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগও চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান।

ফলে নিকজাদের বক্তব্য শুধু মোজতবা খামেনির হামলা থেকে বেঁচে যাওয়ার দাবি নয়; এটি ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে চলমান সংঘাতের ফলাফল সম্পর্কে দেওয়া একটি বার্তাও। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি এবং ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার বর্তমান অবস্থার পূর্ণ চিত্র স্বাধীনভাবে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের দাবির বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।