ইসরায়েল গাজা উপত্যকাকে আধুনিক ইতিহাসের ‘সবচেয়ে বড় ও কঠোর ঘেটোতে’ পরিণত করেছে বলে অভিযোগ করেছে ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর। সংস্থাটির ভাষ্য, দীর্ঘদিনের অবরোধ, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, বাস্তুচ্যুতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটের কারণে গাজার দুই মিলিয়নের বেশি মানুষ ক্রমেই একটি সীমিত এলাকায় আটকা পড়ছে।
২৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইউরো-মেড বলেছে, গাজার বাসিন্দাদের জন্য কার্যত প্রবেশযোগ্য এলাকা উপত্যকার প্রায় ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। সংস্থাটির দাবি, ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা, বাফার জোন এবং তথাকথিত ‘ইয়েলো জোন’ গাজার বড় অংশকে বাসিন্দাদের নাগালের বাইরে নিয়ে গেছে।
ইউরো-মেডের অভিযোগ, গাজায় খাদ্য ও অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজনীয়তার সংকটকে এমন পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে যে বহু পরিবার নিজেদের বাড়িঘর ও আয়ের উৎস হারিয়ে মানবিক সহায়তার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। সংস্থাটি আরও বলেছে, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়া এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য জরুরি উপকরণের ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও সংকটময় করেছে।
মানবাধিকার সংস্থাটির মতে, গাজার সংকট শুধু আবাসন ও খাদ্যসংকটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব পড়েছে পুরো অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর ওপর। দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি ও অবকাঠামো ধ্বংসের ফলে স্বাভাবিক জীবন পুনর্গঠনের সুযোগও সংকুচিত হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
ইউরো-মেড এর আগে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, গাজার প্রায় ২ দশমিক ১ মিলিয়ন মানুষের বসবাসযোগ্য এলাকা প্রায় ১২৮ বর্গকিলোমিটারে সীমিত হয়ে এসেছে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ওই এলাকায় জনসংখ্যার ঘনত্ব অত্যন্ত বেড়ে গেছে এবং ধ্বংসস্তূপ, বর্জ্য, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ও বিশুদ্ধ পানির সংকট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
এদিকে জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ মূল্যায়ন অনুযায়ী, গাজায় ব্যাপক ধ্বংসের ফলে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসস্তূপ জমেছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রায় ৬১ মিলিয়ন টন ধ্বংসস্তূপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে অবকাঠামো পুনর্গঠন, বাসিন্দাদের পুনর্বাসন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা মানবদেহ উদ্ধারের কাজও কঠিন হয়ে পড়েছে।
তবে ‘সবচেয়ে বড় ও কঠোর ঘেটো’—এটি ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটরের মূল্যায়ন ও বর্ণনা; এটি কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার আনুষ্ঠানিক শ্রেণিবিন্যাস নয়। গাজা নিয়ে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড, অবরোধ ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক বিতর্ক ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।