নিজের স্বার্থ সুরক্ষায় হরমুজকে 'হাতিয়ার' হিসাবে ব্যবহার করতে হবে: ইরানি এমপি

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইলে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগকারী বাইরের শক্তিগুলোকে এর ‘মূল্য’ দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের প্রেসিডিয়াম বোর্ডের সদস্য আহমাদ নাদেরি।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) পার্লামেন্টের সংবাদমাধ্যম ‘খানেহ মেল্লাত’-কে দেওয়া বক্তব্যে নাদেরি বলেন, জ্বালানি ও নৌপথের নিরাপত্তা ‘হস্তক্ষেপকারী শক্তির জন্য বিনামূল্যের কোনো পণ্য নয়’। তাঁর মতে, আঞ্চলিক জ্বালানি রুটগুলোর নিরাপত্তাকে ইরানের নিজস্ব নিরাপত্তার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা প্রয়োজন।

নাদেরি বলেন, সামরিক প্রতিরোধের লক্ষ্য শুধু হামলার পর পাল্টা জবাব দেওয়া হওয়া উচিত নয়; বরং শুরুতেই সম্ভাব্য হামলাকারীর জন্য এমন ব্যয় তৈরি করতে হবে, যাতে হামলা চালানো তাদের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক জলপথগুলোর নিরাপত্তা যদি ইরান ও পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তাহলে ইরানের ওপর যেকোনো চাপ বা অবরোধ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর জন্য ‘বাস্তব মূল্য’ তৈরি করবে।

হরমুজ প্রণালির জন্য আইনি ও প্রতিরোধমূলক কাঠামো তৈরিরও আহ্বান জানিয়েছেন নাদেরি। তাঁর মতে, ইরানকে নিজের স্বার্থ সুরক্ষায় ভৌগোলিক অবস্থানকে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলোতে নিরাপত্তা, নৌচলাচল ও আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছিলেন, হরমুজে নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এমন কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে, যা তেহরানের মতে জলপথটিতে অনিরাপত্তা তৈরি করছে।

এদিকে, এর আগেও ইরানের একাধিক আইনপ্রণেতা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত বাড়লে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তবে নাদেরির শুক্রবারের বক্তব্যে সরাসরি প্রণালি বন্ধের ঘোষণা নয়, বরং এর নিরাপত্তাকে ইরানের নিরাপত্তা ও স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করে বাইরের শক্তির ওপর চাপ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথগুলোর একটি হওয়ায় এর নিরাপত্তা নিয়ে যেকোনো উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও সামুদ্রিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে প্রণালির ব্যবস্থাপনা, নৌচলাচলের স্বাধীনতা এবং এর ওপর কোনো ধরনের অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা আন্তর্জাতিক আইন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছে।