গাজায় জীবনরক্ষাকারী ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, কৃত্রিম অঙ্গসহ জরুরি মানবিক সহায়তা প্রবেশে বারবার বিলম্বের কারণে ‘ভয়াবহ পরিণতি’ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। সংস্থাটি বলেছে, শুধু ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করলেই হবে না যে চিকিৎসা সামগ্রী প্রয়োজন, তা সময়মতো মানুষের কাছে পৌঁছানোই গুরুত্বপূর্ণ।
WHO-এর ফিলিস্তিন প্রতিনিধি রেইনহিল্ডে ভ্যান ডি ভের্ডট বলেন, ইসরায়েল থেকে গাজায় চিকিৎসাসামগ্রী পাঠানোর অনুমোদন প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও অনিশ্চিত। WHO-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চিকিৎসাসামগ্রীর বড় চালান অনুমোদনের অপেক্ষায় মাঝামাঝি হিসাবে ৭৪ দিন পর্যন্ত আটকে থাকে। কোনো চালান প্রত্যাখ্যাত হলে পুরো প্রক্রিয়াটি আবার শুরু করতে হয়।
বিশেষ করে এক্স-রে মেশিন, জীবাণুমুক্তকরণ সরঞ্জাম, সিটি স্ক্যানের খুচরা যন্ত্রাংশ এবং ল্যাবরেটরি সরঞ্জাম নিয়ে বড় ধরনের জটিলতা রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৪০ শতাংশ ল্যাবরেটরি ও ডায়াগনস্টিক সরঞ্জাম অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। গত ছয় মাসে কৃত্রিম অঙ্গ ও সহায়ক যন্ত্রের একটি চালান চারবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
WHO বলছে, পর্যাপ্ত ডায়াগনস্টিক সরঞ্জাম না থাকায় গাজায় রোগের প্রাদুর্ভাব শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। শীত শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। সংস্থাটির মতে, প্রায় ২০ লাখ মানুষ ঠান্ডা ও বন্যার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষার জন্য আশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তায় রয়েছে। অপর্যাপ্ত পানি, স্যানিটেশন ও আশ্রয়ব্যবস্থার কারণে প্রতিরোধযোগ্য রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।
WHO গাজায় মানবিক ও স্বাস্থ্যসামগ্রীর বাধাহীন, পূর্বানুমানযোগ্য এবং বৃহৎ পরিসরে প্রবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে একাধিক ক্রসিং ব্যবহার করে ত্রাণ সরবরাহের ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছে।
WHO-এর ২৪ সেপ্টেম্বরের হিসাব অনুযায়ী, গাজার ৩৬টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ১৯টি আংশিকভাবে চালু ছিল এবং একটিও পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যকর ছিল না। সংস্থাটি জানিয়েছে, দুই মিলিয়নের বেশি মানুষ এখনো মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
সূত্র: WHO, জাতিসংঘ ও আল জাজিরা।